|
আল্লার জমিনে আল্লার আইন চালু করা কেন প্রয়োজন? আমাদের কি উপকার হবে? >> আল্লার জমিনে আল্লাহর আইন চালু করা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একান্তভাবে জরুরি এবং অপরিহার্য। কারণ এটি ঈমান, ইবাদত, সমাজ, রাজনীতি, ন্যায়বিচার, শান্তি, এমনকি আখিরাতের মুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নিচে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো: ১। আল্লাহই জমিনের মালিক, তাই তিনিই আইনদাতা হওয়া উচিতঃ আল্লাহ যেহেতু জমিনের সৃষ্টিকর্তা ও মালিক, তাই আইন দেয়ার অধিকারও একমাত্র তাঁরই। তাঁর জমিনে যদি মানুষের বানানো আইন চলে, তাহলে সেটি হবে অন্যায়, বিদ্রোহ, ও শিরক এর সামিল। ২। আল্লাহর আইনই সর্বোচ্চ ন্যায়বিচারপূর্ণঃ আল্লাহর প্রতিটি হুকুম জ্ঞান, হিকমত ও ন্যায়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত। মানুষের বানানো আইন সীমাবদ্ধ জ্ঞান ও স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু আল্লাহর আইন নিখুঁত, পক্ষপাতহীন, ও সার্বজনীন। তাই সত্যিকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আল্লাহর আইন ছাড়া বিকল্প নেই। ৩। আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইন চালু করাকে কুরআন 'কাফির, জালিম ও ফাসিক' বলেছেঃ "যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফির/ জালিম/ ফাসিক।" – (সূরা আল-মায়িদা -৪৪,৪৫,৪৭ ) এই তিনটি শব্দ "কাফির, জালিম, ফাসিক" ইঙ্গিত করে, আল্লাহর আইন ছাড়া অন্যকে আইনদাতা হিসেবে মানা বড় গুনাহ এবং তাওহীদের লঙ্ঘন। ৪। আল্লাহর আইন কায়েম করা ঈমানের দাবি ও ইবাদতের অংশঃ "তারা কি জাহেলিয়াতের বিধান চায়? যারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর বিধানের চেয়ে উত্তম বিধান আর কে দিতে পারে?" – (সূরা মায়িদা ৫:৫০) তাই একজন মু’মিন শুধু নামাজ, রোজা করেই দায় মুক্ত নয়, বরং সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্যও দায়িত্ববান। ৫। রাসূল (সা.) ও সাহাবারা আল্লাহর আইন কায়েমে জীবন উৎসর্গ করেছেনঃ রাসূল (সা.) ১৩ বছর মক্কায় এবং ১০ বছর মদিনায় শুধু নামাজ-রোজার কথা বলেননি, বরং একটা ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন যেখানে আল্লাহর আইন চালু ছিল। আজ মুসলিমরা যদি সত্যিকার ‘উম্মত’ হতে চায়, তবে আল্লাহর রাসূলের এই সুন্নাত অনুসরণ করে আল্লাহর বিধান কায়েমের চেষ্টা করতেই হবে। ৬। আল্লাহর আইন চালু না হলে সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতি বাড়েঃ # মানুষ প্রণীত আইনে ধনীদের রক্ষা করা হয়, গরিবরা শাস্তি পায় #বিচারব্যবস্থা হয় দুর্নীতিগ্রস্ত # শিশু নির্যাতন বাড়ে #মাদক, সুদ, জুয়া, ব্যভিচার ও হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায় কিন্তু ইসলামী আইন চালু হলে সমাজে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরে আসে। ৭। আল্লাহর আইন কায়েম করলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতাঃ "যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে বড় সফলতা অর্জন করল।" – (সূরা আহযাব ৩৩:৭১) দুনিয়ায় সমাজে শান্তি ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, আখিরাতে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি ৮। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ বিধানদাতাঃ মানুষ সীমাবদ্ধ জ্ঞানসম্পন্ন, পক্ষপাতদুষ্ট ও স্বার্থান্ধ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর আইন ন্যায়ভিত্তিক, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বকালীন। তাই আল্লাহর দেওয়া বিধানই একমাত্র ন্যায্য এবং টেকসই। ৯। মানবজীবনের সকল দিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল আল্লাহর আইনঃ ইসলামী আইন শুধু ইবাদত নয়, বরং রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, সমাজনীতি সবকিছুতেই আল্লাহর নির্দেশনা দেয়। ফলে একটি পরিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ১০। আমাদের পৃথিবীতে প্রেরণের উদ্দেশ্য এটাইঃ আমাদেরকে আল্লাহ সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন মূলত তার এই জমিনে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য । অন্য কোন কারণে পৃথিবীতে পাঠানোর দরকার হয় না। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য কিন্তু পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য । ১১। পার্থিব ও পরকালীন শান্তি লাভের একমাত্র পথ যেখানে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য আসে। সারসংক্ষেপ: কারণ ও ব্যাখ্যা আল্লাহ জমিনের মালিক তাই আইনদাতা তিনিই হবেন আইন আল্লাহর ইবাদতের অংশ আল্লাহর বিধান মানা ঈমানের দাবি আল্লাহর আইনই ন্যায়পূর্ণ পক্ষপাত, দুর্নীতি ও জুলুম থেকে মুক্ত নবী-সাহাবাদের আদর্শ তাঁরা জীবন দিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন সামাজিক কল্যাণ ন্যায়, শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় আখিরাতের মুক্তি একমাত্র আল্লাহর বিধান মেনে চললেই শেষ কথা: আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন চালু করা কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়, এটি মুসলমানদের জন্য ফরজ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা মানে নিজের ঈমানকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। আল্লাহর আইন চালু হলে আমাদের কী উপকার হবে? ১. ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে: আল্লাহর আইন পক্ষপাতমুক্ত, ধনী-গরিব, শাসক-প্রজার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। ২. অপরাধ হ্রাস পাবেঃ ইসলামী শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অপরাধের প্রবণতা কমিয়ে দেয় (যেমন চুরি, হত্যা, ধর্ষণ)। ৩. নৈতিক সমাজ গড়ে উঠবেঃ আল্লাহর আইন ব্যক্তি ও সমাজকে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়। ৪. আখিরাতে মুক্তি লাভঃ আল্লাহর হুকুম মান্য করলে পরকালে মুক্তি এবং জান্নাতের অধিকারী হওয়া যাবে। সারসংক্ষেপে: আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা শুধু একটি দায়িত্ব নয়—এটি মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব ও কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আমরা কেন আল্লাহর বিধান কায়েমের জন্য চেষ্টা করব? আমরা মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দেওয়া বিধান কায়েমের জন্য চেষ্টা করব—এটি আমাদের ঈমানের দাবি, ইবাদতের অংশ, এবং দুনিয়া-আখিরাতের মুক্তির একমাত্র পথ। নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. আল্লাহর খলিফা হিসেবে দায়িত্বঃ আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন খলিফা (প্রতিনিধি) হিসেবে। "তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছেন" – (সূরা ফাতির 35:39) আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী পৃথিবী পরিচালনা করা। এটি কেবল ইচ্ছার বিষয় নয়—এটি একান্ত দায়িত্ব। ২. ঈমানের পরিপূর্ণতা এটার সঙ্গে জড়িতঃ আল্লাহ বলেন: "যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।" (সূরা আল-মায়িদাহ 5:44) যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিধান অস্বীকার করে বা তুচ্ছজ্ঞান করে, তার ঈমান হুমকির মুখে পড়ে। ৩. নবী ও সাহাবারা এর জন্য সংগ্রাম করেছেনঃ রাসূল (সা.) ও সাহাবারা তাগুতী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর বিধান কায়েম করেছেন। আমরা যদি সত্যিকারের উম্মত হতে চাই, তবে আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। "তোমাদের জন্য রাসূলের (সা.) মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" – (সূরা আহযাব 33:21) ৪. এই চেষ্টা করাই ইবাদতের অংশঃ আল্লাহর বিধান কায়েমের জন্য চেষ্টা করাও একটি মহৎ ইবাদত। কেবল নামাজ-রোজা করলেই চলবে না, আল্লাহর জমিনে তাঁর আইন কায়েমে ভূমিকা রাখাটাও ইবাদত। ৫. সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যঃ মানবসৃষ্ট আইন কখনোই ন্যায্যতা ও স্থায়িত্ব দিতে পারে না। সামাজিক বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, অন্যায়, বৈষম্য দূর হয় শুধু তখনই, যখন আল্লাহর ন্যায্য বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬. আখিরাতে জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুতি প্রত্যেককে কিয়ামতের দিনে জিজ্ঞেস করা হবে: "তোমরা কী করেছিলে? আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের জন্য কী চেষ্টা করেছিলে?" যদি আমরা চেষ্টা না করি, জবাব কী দেব? সারসংক্ষেপে: আমরা আল্লাহর বিধান কায়েমের জন্য চেষ্টা করব, কারণ: এটা ঈমানের দাবি আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এটা রাসূলের সুন্নাত সমাজের শান্তি ও ন্যায়ের একমাত্র পথ আখিরাতে মুক্তির উপায় এটি শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি নয়—বরং এক বিশুদ্ধ ইবাদত, এক মহাসংগ্রাম। চাইলে আমি এই বিষয়ে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য বা কোটেশন সংগ্রহ করে দিতে পারি। জমিন যার আইন চলবে তার, কেন? "জমিন যার, আইন চলবে তার" এই বাক্যটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সত্য প্রকাশ করে। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পৃথিবীর ওপর কর্তৃত্ব দাবি করে, বাস্তবে সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীরই আইন সেখানে কার্যকর হয়। এখন আমরা বিস্তারিতভাবে বুঝে নেব, কেন এই কথাটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এর ব্যাখ্যা কী। ১. আইন আসলে কর্তৃত্বের প্রতীকঃ যার আইন চলে, আসলে সেই শাসন করে। তাই আল্লাহ ছাড়া যদি অন্য কারও আইন চলে, তাহলে তারই শাসন কার্যকর হচ্ছে—এটা তাওহীদের পরিপন্থী। "ফয়সালা কেবল আল্লাহরই।" – (সূরা ইউসুফ 12:40) "তিনি শরীক করেন না নিজের শাসনে কাউকে।" – (সূরা কাহফ 18:26) যদি কেউ আল্লাহর জমিনে মানুষের বানানো আইন চালায়, তাহলে সে আল্লাহর শাসন অস্বীকার করছে। ২. আল্লাহর জমিনে মানুষের আইন মানে শিরক বা তাগুতঃ মানুষের বানানো আইন চালু করা মানে তাগুতের আনুগত্য করা, যা ইসলামে শিরকের অন্তর্ভুক্ত। "যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারা জালিম, ফাসিক এবং কাফির।" – (সূরা মায়েদা ৫:৪৪-৪৭) তাই, কার আইন মানা হচ্ছে সেটা আসলে বলে দেয় কার ‘বাদশাহি’ কায়েম হয়েছে। ৩. ইসলামের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রওঃ ইসলাম কেবল ব্যক্তি জীবনের ধর্ম নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামের শাসন মানে: ব্যক্তিগত জীবন (ইবাদত, নৈতিকতা), পারিবারিক জীবন (বিয়ে, উত্তরাধিকার), অর্থনীতি (জাকাত, সুদ), রাজনীতি (ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (জিহাদ, চুক্তি) – সবকিছুই আল্লাহর আইনের অধীনে চলবে। যেখানে ইসলামী আইন নেই, সেখানে প্রকৃত অর্থে ইসলামী রাষ্ট্র নেই। ৪. আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও একই বাস্তবতাঃ আজকের দুনিয়ায় আপনি যেই রাষ্ট্রে বাস করছেন, আপনাকে সেই রাষ্ট্রের আইন মানতেই হবে। কারণ তারা শাসক। আপনি যদি অন্য আইন মানতে চান, সেটাকে তারা ‘বিদ্রোহ’ বলে ধরে নেয়। সুতরাং, জমিন যার—আইনও তার। এটা শুধু ধর্মীয় সত্য নয়, বাস্তব রাজনৈতিক বাস্তবতাও। ৫. আল্লাহ জমিনের মালিক, তাই আইনও আল্লাহরই চালু হওয়া উচিতঃ আল্লাহ বলেন:"নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর।" – (সূরা শূরা 42:49) "সতর্ক হও, সৃষ্টিও তাঁর, আদেশও তাঁর।" – (সূরা আরাফ 7:54) যেহেতু জমিন আল্লাহর, তাই এতে কারো আইন নয়—একমাত্র আল্লাহর আইনই চলবে, এটাই প্রকৃত ইনসাফ। সারসংক্ষেপ: "জমিন যার, আইন চলবে তার" এই কথা বাস্তব, কারণ— আইন হলো শাসনের প্রকাশ। আল্লাহ জমিনের একমাত্র মালিক। মানবসৃষ্ট আইন চালু করলে সেটা শিরক বা তাগুত। শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রেও ইসলাম চালু করা ফরজ। তাই মুসলমানদের দায়িত্ব হলো—আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করার চেষ্টা করা। না হলে আমরা শুধু নামের মুসলমান হয়ে থাকব, বাস্তবে নয়। উম্মতে মোহাম্মাদী আরব থেকে বের হয়ে অন্যান্য জাতীর সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এই যে , তারা রাসূল (সঃ) এর কাছ থেকে সরাসরি ইসলাম শিক্ষা করার ফলে তারা সঠিক ভাবে ইসলামকে বুঝতে পেরেছিলেন। তারা বুঝেছিলেন ইসলাম কী? এর উদ্দেশ্য কী? এই উদ্দেশ্য অর্জনের প্রকৃয়া কী? কোনটা বেশি প্রয়োজন, কোনটা কম প্রয়োজন। তারা বুঝেছিলেন আল্লাহর প্রতি ইবলিশের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সে আদম সন্তানকে প্ররোচনা দিয়ে দ্বীন অর্থাৎ আল্লার দেওয়া জীবন বিধানকে হয় বিকৃত না হয় অস্বীকার করিয়ে, মানুষকে দিয়ে বিধান তৈরি করিয়ে মানুষকে আশান্তি, অবিচার, যুদ্ধ রক্তপাতের মধ্যে পতিত করাবে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তিনটি কারণে- ১। ইবাদত করার জন্যঃ সূরা আয যারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে “আমি জীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি কেবল মাত্র আমার ইবাদতের জন্য ” ইবাদত কেবল মাত্র নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব ও যাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কোন নেক কাজই ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত । ২। পরীক্ষার জন্যঃ পৃথিবীটা হচ্ছে মানুষের জন্য একটি পরীক্ষার ময়দান। সূরা আল মূলক এর ২ নং আয়াতে বলা হয়েছে “যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন ও মরণ, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ, তিনি পরাক্রমশালী ক্ষমতাময় ” এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে মানুষের উচিৎ সৎ পথে চলা, ধৈয্যধারণ করা, অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং ন্যায় বিচার করা। ৩। খলিফা হিসাবেঃ আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে তার খলিফা হিসাবে পাঠিয়েছেন। সূরা আল বাকারার ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর তোমার পালন কর্তা যখন ফেরেস্তাদেরকে বললেন আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি তখন ফেরেস্তাগণ বললেন তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুন কীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্যাকে স্বরণ করছি। তিনি বললেন নিঃসন্দেহে আমি জানি যা তোমরা জান না ” এখানে প্রতিনিধি মানে হলো, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, প্রকৃতির সংরক্ষণ করা, সমাজে শান্তি বজায় রাখা এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করা। ছবরঃ আল্লাহ মোমেনদেরকে বলেছেন ছবর করতে, কিন্তু ছবর মানে কি সেই বিষয়টিই আমরা বুঝি না। আমরা বুঝি ছবর মানে ধৈয্য ধারণ করা, মানে আপনার চার পাশে অন্যায় হবে, অবিচার হবে, আপনার সাথে জুলুম হবে আর আপনি ধৈয্য ধারণ করে বসে থাকবেন। কোনো সংঘাতের মধ্যে যাবেন না। অথচ ছবরের প্রকৃত অর্থ ঠিক তার উল্টো । ছবর মানে ঘরে বসে মার খাওয়া না । ছবর মানে হলো লক্ষ্য অর্জনের পথে দৃঢ় থাকা, অটল থাকা। যেমন মোমিনের লক্ষ্য হলো তারা আল্লার জমিনে আল্লার দ্বীন কায়েম করবে। আর এ দ্বীন কায়েমের পথে চলতে গেলে তাগুতের সাথে আপনার শত্রুতা শুরু হবে, যুদ্ধ হবে, লড়াই হবে, আর এ সময় আপনার জীবনের উপর আঘাত আসবে, সম্পদের উপর আঘাত আসবে, পরিবারের উপর আঘাত আসবে, তখন আপনি কি করবেন? আপনি কি ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবেন? নাকি চুপ হয়ে যাবেন? যদি আপনি চুপ হয়ে যান তাহলে আপনি ছবর করতে পারলেন না। আর যদি সমস্ত বাধার মুখে হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যান তার মানে আপনি আপনার লক্ষ্যে স্থির থাকলেন, অনড় থাকলেন, অটল থাকলেন। তার মানে আপনি ছবর করলেন। আপনি হলেন ছাবের। সুতরাং ছবর করার জন্য আপনাকে আগে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে নামতে হবে। যারা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে লড়াই করবে না তাদের জীবনে ছবর ও নেই বিজয় ও নেই। তাদের জীবনে আছে সুধু ঘরে বসে মার খাওয়া। এ জাতির কাল ঘুমঃ এ জাতির কাল ঘুম ভাংগানোর পরিবর্তে আলেমগণ নিজেরাও গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছে এবং জাতিকে ও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিরক কুফরে ডুবে থাকা মুসলমানদেরকে তারা- একশত বার সুবাহান আল্লা-সুবাহান আল্লা পড়ে জান্নাতে যাওয়ার সহজ রাস্তা দেখাচ্ছেন। কোরআনের প্রতি হরফ তিলাওয়াত করে দশটি করে নেকি পাওয়ার স্পেশাল অফার দিচ্ছে। পীরের হাতে বায়াত নিয়ে হাশরের দিনে তারা সরাসরি জান্নাতে চলে যাওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। মসজিদ মাদ্রাসায় দানকারীকে মা- বাবা সহ জান্নাতের লাইসেন্স দিয়ে দিচ্ছে। আরবের খেজুর খেয়ে, জুব্বা পরে, ডান কাতে শুয়ে, আর খাবার পরে মিষ্টি খেয়ে রাসূলের পাক্কা উম্মত হওয়ার উপায় বাতলে দিচ্ছে। কালেমা হলো বান্দার সাথে আল্লার একটি চুক্তি জিহাদ বিহীন ইসলাম হয় না মাখরাজ শিখানোর চেয়ে আল্লার রাস্তায় জীবন , সম্পদ কুরবানী করা শিখানো উচিৎ। কারণ মাখরাজ আপনাকে বেহেশতে নিতে পারবে না। বাংলাদেশের নামাজী ভাইদেরকে যখন বলা হয় ভাই আপনারা নামাজ পড়তেছেন ভালো কথা কিন্তু আপনাদের তো ঈমান নেই। ঈমান ছাড়া আমল করে কি লাভ হবে। তখন তারা বলেন নামাজ পড়তে পড়তে নাকি ঈমান চলে আসবে। আসলে ঈমান কাকে বলে সেটাই তারা বোঝে না। দেখেন আমরা সামাজিক জীব , আর সমাজে বসবাস করার জন্য প্রচুর আইন কানুন বিধি বিধান লাগে। গণতন্ত্রের দাবি হলো এ সকল আইন কানুন বিধি বিধান মানুষ নিজেই তৈরি করে নিবে। অন্য দিকে ইসলামের কথা হলো না মানুষ নিজে এসব বিধি বিধান তৈরি করতে পারবে না । বিধান দাতা একজনই আর তিনি হলেন আল্লাহ। তার মানে আপনার সামনে দুইটি অপশন আছে। গণতন্ত্র বলতেছে বিধান দাতা মানুষ। আর ইসলাম বলতেছে বিধান দাতা একমাত্র আল্লাহ। আপনি কোনটাতে বিশ্বাসী হবেন? আপনি যদি বলেন মানুষের বিধান মানব তাহলে আপনি মানুষের প্রতি ঈমান আনলেন। আর যদি বলেন আল্লার বিধান মানব তাহলে আপনি আল্লার প্রতি ঈমান আনলেন। যারা আল্লার প্রতি ঈমান আনলেন অর্থাৎ মুমিন হলেন তাদের জন্য আল্লাহ কুরআন পাঠিয়ে বললেন এই যে নাও আমার বিধান , এটাকে অনুসরণ করো। এটা দিয়ে নামাজ পড়, এটা দিয়ে সমাজ চালাও, রাষ্ট্র চালাও, বিচার করো, সমস্ত বিধান আমি এখানে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা দেখতেছি কি? যে ভাইটা গণতন্ত্রের প্রতি ঈমান রাখেন তিনি আবার নামাজ ও পড়েন। আরে ভাই আপনি নামাজ পড়তেছেন কেন? নামাজ তো আল্লার বিধান , এটা তো মুমিনের জন্য। আপনি তো আল্লার বিধান মানেননা। আপনি তো মানুষের বিঢান মানেন। হ্যাঁ আপনি যদি নামাজ পড়তেই চান তাহলে সভার আগে মানুষের বিধান থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে তার পর ঘোষণা দেন । লা-ই-লাহা ইল্লালা হু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ- আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুম দাতা নেই, বিধান দাতা নেই, এই ঘোষণাই হবে আপনার ঈমান। মুনাজাতঃ আমরা অনেক সময় মনে করি আল্লার কাছে দুই হাত তুলে কান্নাকাটি করলেই আল্লাহ তায়ালা জান্নাত দিয়ে দিবেন। তাই আমরা অনেক সময় কান্না না আসলে ও জোর করে কান্নার চেষ্টা করি যাতে আল্লাহ দয়া করে মায়া করে জান্নাত দিয়ে দেয়। কিন্তু ভাই আপনি কি জানেন কান্না কাটি করে জান্নাত পাওয়ার সিস্টেম ইসলামে কোথাও নেই। আসলে এটা কান্না কাটির বিষয় না। বরং আপনার জান্নাত আপনাকে অর্জন করে নিতে হবে। এটা কিভাবে অর্জন করবেন সেই সিস্টেম আল্লাহ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। সূরা তওবার ১১১ নং আয়াতে, আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মুমিনের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন” আয়াতটি খেয়াল করেন, মানে এখানে আল্লাহ স্পস্ট ভাবে বেচা কেনার কথা বলেছেন। মানে আপনি আপনার জান ও মাল আল্লাহকে দিবেন, বিনিময়ে আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দিবেন। যে ভাবে আপনি দোকানে গিয়ে টাকা দিয়ে জিনিস পত্র কেনেন। সেখানে কান্না কাটির কোন বিষয় থাকে না। তেমনি আল্লার কাছে আপনার জীবন, সম্পদ জমা দিয়ে জান্নাত বুঝে নিয়ে আসতে হবে। এখন কথা হলো জান মাল আল্লাহকে কিভাবে দিব? দেওয়ার পদ্ধতিটা কি? সে পদ্ধতি আল্লার রাসূল এবং সাহাবিরা দেখিয়ে গেছেন। সেটা হলো এই যে, আপনার জান মাল উৎসর্গ করতে হবে আল্লার দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। এটাই আল্লাহর রাস্তায় জান মাল দেওয়া। যখনি আপনি এই সংগ্রামে জান মাল দিবেন তখনি আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রাখবেন। আর হ্যাঁ আপনি যেই মানের জীবন, সম্পদ দিবেন আপনাকে সেই মানের জান্নাত দান করা হবে। একটু কম ও না বেশিও না। সুতরাং এখানে কান্না কাটির কোন বিষয় নেই। তবে হ্যাঁ আপনি এই বলে কান্না কাটি করতে পারেন যে, হে আল্লাহ আমাকে তোমার রাস্তায় জান মাল দান করার তাওফিক দাও। সাহাবীগণ এবং রাসূল (সঃ) মূলত সেই জন্য কান্না কাটি করতেন। আসল সুন্নত হলো জিহাদঃ রাসূল (সঃ) সারা জীবন কাটিয়েছেন জিহাদ করে। তার আসল সুন্নত ছিল জিহাদ। কিন্তু জিহাদের সুন্নত পালন করতে তো ডর লাগে। তাই আমাদের সুফী দরবেশরা অনেক গবেষণা করে কিছু নিরাপদ সুন্নত আবিস্কার করলেন। তারা বললেন, দাড়ি, টুপি, মেসওয়াক এই গুলোই হলো নবীর আসল সুন্নত। এগুলো মানলেই নবীর পাক্কা উম্মত হওয়া যাবে। রাসূল (সঃ) এবং সাহাবীদের কাছে বড় জিহাদ হলো রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা। কিন্তু এই বড় জিহাদে তো জীবন হারানোর ভয় আছে। তাই আমাদের সুফী দরবেশরা অনেক গবেষণা করে আর একটি বড় জিহাদ আবিস্কার করলেন, সেটা হলো মনের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। হাদিসে আছে লা-ইলাহা ইল্লালা হলো জান্নাতের চাবি কিন্তু ঐ চাবি পাইতে হইলে তো আল্লার পথে জিহাদ করা লাগে সেটা তো কঠিন কাজ। তাই আমাদের সুফীগণ আবিস্কার করলেন নামাজ জান্নাতের চাবি। এভাবেই আমরা নিরাপদে নামাজ পড়ে, নিরাপদে আত্মার বিরুদ্ধে বড় জিহাদ করে, নিরাপদে দাড়ি, টুপি, মেসওয়াক করে নিরাপদে জান্নাতে চলে যাওয়ার ধান্দায় আছি। রাসূল (সঃ)এর উম্মত হইতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরাম মার খেল, রক্ত দিল, জীবন দিল, অথচ আমরা কি সুন্দর পাক্কা উম্মত হয়ে যাইতেছি। আমাদের কোন মার খাইতে হইতেছে না। জীবন সম্পদ কুরবানী করতে হইতেছে না। বরং সবাই হাসের রান, মুরগীর রান খাওয়াইতেছে, মিজাই আলাদা। এতো মজার ইসলাম থাকতে রাসূল (সঃ) এবং তার সাহাবীরা কেন যে এতো কষ্টের ইসলাম পালন করতে গিয়েছিল সেটাই এখন প্রশ্ন। মোমেনঃ মোমেন তো তারাই যারা বলবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম বিধান মানি না। কাফের মুশরিকরা যখন বলবে আমরা গণতন্ত্র চাই। মুমিনরা তখন বলবে আমরা আল্লার দ্বীন চাই। কাফের মুশরিকরা যখন বলবে ইসলাম দিয়ে শুধু মসজিদ মাদ্রাসা চলবে, মুমিনরা তখন বলবে না ইসলাম দিয়ে রাষ্ট্র এবং সমাজ ও চলবে। কাফের মুশরিকরা যখন বলবে সার্বভৌমত্ব হবে মানুষের, মুমিনরা তখন বলবে না সার্বভৌমত্ব শুধুই আল্লাহর- - - শুরু হবে বিপ্লব, আর বিপ্লব মানেই তো হলো হাঁসতে হাঁসতে জীবন দেওয়া, মাল দেওয়া। আমাদের নামাজ, রোজা হজ্জ্ব, যাকাত এগুলো নিয়ে ইবলিশের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তার আসল মাথা ব্যাথা হলো আমরা আল্লার তৈরি বিধান দিয়ে জীবন চালাব নাকি মানুষের তৈরি বিধান দিয়ে জীবন চালাব সেটা নিয়ে। আমরা যখন মসজিদে বসে শুধু নামাজ রোজা নিয়ে ব্যস্ত, ইবলিশ তখন আমাদের রাষ্ট্র দখল করে বসে আছে, সমাজ দখল করে বসে আছে। তাই আমাদের নামাজ রোজা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যথা নেই । কিন্তু আপনি নামাজ রোজা ছেড়ে দিয়ে বলেন-রাষ্ট্র চলবে আল্লার বিধানে, সমাজ চলবে আল্লার বিধানে তখনি দেখবেন ইবলিশ আপনার পিছনে লাগছে। কারণ ইবলিশ ভালো ভাবেই জানে যে, সমাজ ও রাষ্টীয় জীবনে আল্লার বিধান কায়েম হলে ইবলিশের রাজত্ব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। আমরা আল্লার সংবিধান মুখস্ত করি, আর মানুষের তৈরি সংবিধান দিয়ে জীবন পরিচালনা করি। আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন পাঠালেন যাতে আমরা কুরআনের আনুগত্যকারী হতে পারি। আমরা কুরআনের আনুগত্যকারী না হয়ে হলাম কুরআনের পাঠক। আল্লাহ আমাদের জন্য রাসূল পাঠালেন যাতে আমরা তার আদর্শের অনুসারী হতে পারি। আমরা তার আদর্শের অনুসারী না হয়ে হলাম তার লেবাসের অনুসারী। আল্লাহ আমাদের জন্য দ্বীন পাঠালেন যাতে আমরা সমাজে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে শান্তিতে বসবাস করতে পারি এবং পরকালীন মুক্তি পেতে পারি। আমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ বাদ দিয়ে দ্বীনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত, যার ফলে আমরা শতদা বিভিক্ত। এখন যদি আমরা সঠিক দ্বীন বুঝাতে যাই তাহলে আমাদেরকেই তারা ভূল বুঝতে শুরু করবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝার তাওফিক দান করুন। |