নেটওয়ার্ক কী? কত প্রকার ও কি কি ?
উত্তরঃ একাধিক কম্পিউটারকে পরস্পরের সাথে জুড়ে দিলে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক চার প্রকার।
১। PAN-Personal Area Network-(ব্যক্তিগত পর্যায়ের নেটওয়ার্ক কৌশল। যেমন bluetooth )
2. LAN-Local Area Network (একই ভবনে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় )
3. MAN -Metropolitan Area Network(একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা শহরে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় । )
4. WAN-Wide Area Network ( দেশ বা পৃথিবী জুড়ে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় )

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? একটি কম্পিউটারের সাথে অপর একটি কম্পিউটার কী কৌশলে যুক্ত হবে সে কৌশলই হচ্ছে নেটওয়ার্ক টপোলজি। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ছয় ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যবহৃত হয়েছে। যথা- ১। বাস টপোলজি (Bus Topology). ২। রিং টপোলজি (Ring Topology). ৩।স্টার টপোলজি (Star Topology). ৪। ট্রি টপোলজি (Tree Topology). ৬। মেশ টপোলজি (Mesh Topology). ৫। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
রাউটার কী?
উত্তরঃ এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানোর পদ্ধতিকে বলে রাউটিং । আর যে ডিভাইস রাউটিং এর কাজ করে তাকে বলে রাউটার।
সাটেলাইট কী?
উত্তরঃ স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রকৃয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ। এটি পৃথিবী হতে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উপরে একটা নির্দিষ্ট কক্ষপথে রাখতে হয়।
সাবমেরিন ক্যাবল কী?
উত্তরঃ সাগরের তল দিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে কিংবা এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যে অত্যান্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তাকে আমরা সাবমেরিন ক্যাবল বলে থাকি। সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থায় আমরা অপটিক্যাল ফাইবার বা আলোক তন্তুর বহুল ব্যবহার দেখতে পাই যা অত্যান্ত দ্রুত গতি সম্পন্ন ।
জিপিএস কী?
উত্তরঃ জিপিএস হলো গ্লোবাল পজিশন সিস্টেম- এর সাহাযে পৃথিবীর যে কোনো স্থানের অবস্থান সম্পর্কে নিখুতভাবে জানা যায়।
কে? কী জন্য বিখ্যাত?
উত্তরঃ আধুনিক কম্পিউটারের জনক- চার্লস বাবেজ
প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক- অ্যাডা লাভলেস।
মোবাইল ফোনের আবিষ্কারক- ড. মার্টিন কুপার।
ই-মেইল সিস্টেম চালু করেন- রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন ।
অ্যাপল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা- স্টিভ জবস।
মাইক্রোসফ্‌টের প্রতিষ্ঠাতা- বিল গেটস ।
ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক- টিম বার্নার্স লি।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা- মার্ক জুকারবার্গ ।
কম্পিউটার ভাইরাস কি? কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ VIRUS এর পূর্ণরূপ হল-Vital Information and Resources Under Siege. ১৯৮৩ সালে ফ্রেড কোহেন কম্পিউটার ভাইরাসের নামকরণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা তথ্য ও উপাত্তকে আক্রমন করে এবং নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কম্পিউটার ভাইরাস এমন এক ধরনের ফাইল বা প্রোগ্রাম যেগুলো কম্পিউটারের স্বাভাবিক ফাইল বা প্রোগ্রামকে নষ্ট করে দিতে পারে। ইহা ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত নিজেরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে। সাধারণত সিডি, পেনড্রাইভ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাস এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে।
কম্পিউটার ভাইরাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত বা কমন এমন ৯ টি ভাইরাস হলোঃ
১. রিসাইডেন্ট ভাইরাস (Resident virus): এটিকে বাসিন্দা বা আবাসিক ভাইরাস বলা যায়। রিসাইডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের র‌্যামে (RAM) বসবাস করে কম্পিউটারের সিস্টেমকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ভাইরাস এতোই ছদ্মবেশে থাকে যে, এ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার থেকেও নিজেকে আড়াল করতে পারে।
২. মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস (Multipartite Virus): মাল্টিপার্টাইট বা বহুদলীয় ভাইরাসটি পুরো সিস্টেমকে সংক্রমিত করে। ব্যবহারকারীর অনুমতিবিহীন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে এটি অপারেটিং সিস্টেম, ফোল্ডার ও প্রোগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. ডাইরেক্ট এ্যাকশন ভাইরাস (Direct Action Virus): এই ভাইরাসটি একটি নির্দিষ্ট ফাইলের ধরণকে লক্ষ্য করে সরাসরি কাজ করে থাকে। সাধারণত এগুলো এক্সিকিউটেবল ফাইল(.exe) হয়, ফাইলগুলোর প্রতিলিপি বা কপি তৈরি করে সংক্রমিত করে। তবে এই ভাইরাসের লক্ষ্যযুক্ত প্রকৃতির কারণে একে সনাক্ত ও দূর করা সহজতর।
৪. ব্রাউজার হাইজাকার (Browser Hijacker): এই ধরনের ভাইরাস ওয়েব ব্রাউজারকে সংক্রমিত করে, ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এই ভাইরাস সহজেই সনাক্ত করা যায়।
৫. ওভাররাইড ভাইরাস (Overwrite Virus): একটি সিস্টেম সংক্রমিত হওয়ার পর, ওভাররাইট ভাইরাস তার নিজস্ব কোড দ্বারা ফাইলের কনটেন্টকে ওভাররাইট করা শুরু করে। এই ভাইরাস নির্দিষ্ট ফাইল বা এ্যাপ্লিকেশনকে টার্গেট করে সংক্রমিত করতে সক্ষম। ক্রমাগতভাবে এটি একটি ডিভাইসের সম্পূর্ণ ফোল্ডার ও ফাইলের ডাটা ধ্বংস করে দিতে পারে।
৬. ওয়েব স্ক্রিপটিং ভাইরাস(Web Scripting Virus): ইহা খুবই ছদ্মবেশী ভাইরাস। এগুলো একটি ওয়েবসাইটের লিংকস, এ্যাড, ইমেজ, ভিডিও এবং কোডের কোডিং এ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব আক্রান্ত ফাইল ডাউনলোড করে কিংবা ওয়েব সাইট পরিদর্শন করে তখন এটি ডিভাইসকে সংক্রমিত করতে পারে।
৭. ফাইল ইনফেক্টর(File Infector): ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস এক্সিকিউটেবল ফাইলকে(.exe) টার্গেট করে থাকে। ব্যবহারকারী এই ফাইলকে রান করলে ভাইরাস প্রোগ্রামকে স্লো করে দিতে পারে এবং সিস্টেম ফাইলকে ড্যামেজ করে দিতে পারে।
৮. নেটওয়ার্ক ভাইরাস(Network Virus): নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে এবং রিসোর্স শেয়ার করলে এরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে।
৯. বুট সেক্টর ভাইরাস(Boot Sector Virus): এই ভাইরাস সহজে এড়ানো সম্ভব। এই ধরনের ভাইরাস সাধারণত পেনড্রাইভ বা ইমেলের ফাইলের সাথে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। যখন এটি সক্রিয় হয় তখন সিস্টেমের ক্ষতি করার জন্য মাস্টার বুট রেকর্ডকে সংক্রমিত করতে পারে।
কম্পিউটার কাকে বলে?
কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র, যা নিজস্ব স্মৃতিভাণ্ডারে একাধিক কাজের নিদের্শাবলি সংরক্ষণ করে রাখে। ব্যবহারকারী ডেটা বা উপাত্ত সরবরাহ করলে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসেসিং করে কাজের ফলাফল প্রদান করে। কম্পিউটারের ফলে মানুষের জীবন আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে। মানুষের মধ্যে ক্লান্তিহীনতা ও নিদ্রা আসলেও কম্পিউটারের কোন ক্লান্তিহীনতা ও নিদ্রা নেই।
কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে?
কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যা সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করার গতি ন্যানোসেকেন্ড (NS) এ হিসেব করা হয়। কম্পিউটারের ভিতর অনেক বর্তনী রয়েছে। ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। কম্পিউটার নিজে কাজ করতে পারেনা। কম্পিউটারের কাজের জন্য কমান্ড দিতে হয়। কমান্ড দেওয়ার জন্য কম্পিউটারের বিশেষ ভাষা রয়েছে। কম্পিউটারের বোধগম্য এ ভাষার মাধ্যমে কম্পিউটারে যে নির্দেশ দেয়া হয় সেই নির্দেশ অনুয়ায়ী কম্পিউটার কাজ করে। কম্পিউটারের এ নির্দেশাবলিকে বলা হয় প্রোগ্রাম। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ছাড়া একটি জড় পদার্থ। উপযুক্ত প্রোগ্রামের ফলে কম্পিউটার জড় পদার্থ থেকে গাণিতিক শক্তিসম্পন্ন বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণত হতে পারে।
কম্পিউটারের কাজ
কম্পিউটার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-
কম্পিউটার ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম (Programs) কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমোরিতে সংরক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ মোতাবেক প্রোগ্রাম নির্বাহ (Execute) করে।
কম্পিউটার কী-বোর্ড, মাউস, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা (Data) গ্রহণ করে ।
কম্পিউটার ডেটা (Data) গ্রহণ করার পর ডাটা প্রক্রিয়াকরণ (Process) করে।
ডাটা প্রক্রিয়াকরণ (Process) সম্পন্ন হলে মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার ইত্যাদির মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করে।
অন্যান্য যন্ত্রের মতো কম্পিউটারেরও নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ্য করা হলো-
১. দ্রুতগতি (High speed): কম্পিউটার অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। এটি সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। কম্পিউটারের কাজের গতি মিলি সেকেন্ড, মাইক্রোসেকেন্ড, ন্যানোসেকেন্ড, পিকোসেকেন্ড ইত্যাদিতে ভাগ করা যায়।
২. নির্ভুলতা (Correctness): কম্পিউটার একটি যন্ত্র। এটি নিজে কাজ করতে পারেনা। ব্যবহারী যে নির্দেশ দেয় সে হিসাবে কম্পিউটার কাজ করে। কম্পিউটার নিজে কখনো ভুল করেনা তবে ব্যবহারকারী ভুল করলে ফলাফল ভুল দেখায়। কম্পিউটারের নির্ভুলতা শতকরা ১০০ ভাগ।
৩. সূক্ষ্মতা (Accuracy) : কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি। এটি যন্ত্র হলেও অনেক সূক্ষ্মভাবে কাজ করে।
৪. বিশ্বাসযোগ্যতা (Reliability): কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যা নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। কম্পিউটারের কাজের কোন ভুল নাই। মানুষ বা কম্পিউটার ব্যবহারকারী ভুল করতে পারে কিন্তু কম্পিউটার ভুল করেনা। এটা প্রমাণিত।
৫. ক্লান্তিহীনতা (Dilligence): কম্পিউটার যেহেতু একটি যন্ত্র তাই এটির কোন ক্লান্তি নাই। ব্যবহারকারীর কমান্ড মোতাবেক সারাক্ষণ কাজ করে যায়। সারাক্ষণ কাজ করলেও উৎসাহ, মনোযোগ ইত্যাদির ঘাটতি হয়না।
৬. স্মৃতিশক্তি (Memory): কম্পিউটারের নিজস্ব স্মৃতিশক্তি (Memory) রয়েছে। সেখানে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর তথ্য জমা রাখে, পক্রিয়া করে ফলাফল প্রদান করে।
৭. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation): কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবেও কাজ করতে পারে। সেজন্য মানুষের পরিবর্তে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৮. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical decision): কম্পিউটার তথ্য উপস্থাপন করে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
৯. বহুমুখিতা (Versatility): বহুমুখী কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে শিক্ষা থেকে শুরু করে সকল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
১০. অসীম জীবনীশক্তি (Endless life): পোগ্রামের মাধ্যমে কম্পিউটার চালানো হয়। এর কোন মৃত্যু নেই। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও কম্পিউটার পোগ্রামের কোন ক্ষতি হয়না।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার
বর্তমানে মানব জীবনের সাথে জড়িত প্রায় সকল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। নিম্নে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো-
১. অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন জায়গায় লেখালেখির কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
২. বিভিন্ন ব্যাংক, শেয়ার বাজার ও ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে টাকা পয়সার হিসাব করতে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৪. শিল্প কারখানায় যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৫. যন্ত্রপাতি, জাহাজ, এ্যারোপ্লেন, মোটরগাড়ি, ঘরবাড়ি ইত্যাদি ডিজাইন করতে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৬. শিক্ষাক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৭. এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৮. বিনোদনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামূলক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
১০. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট কেনা বেচায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
১১. সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
১২. আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরও অনেক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
কম্পিউটারের প্রকারভেদ
গঠন এবং কাজের ভিত্তি করে কম্পিউটারকে তিনভাগে ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
এনালগ কম্পিউটার (Analog computer).
ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer).
হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer).
এনালগ কম্পিউটার (Analog computer)
Analogy থেকে Analog শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হলো হচ্ছে সাদৃশ্য। এনালগ সংকেতের মাধ্যমে অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer) কাজ করে। এনালগ কম্পিউটারের বৈশিষ্ট
এনালগ সংকেত পর্যায়ক্রমে উঠানামা করে।
এনালগ কম্পিউটার আউটপুট সাধারণত কাঁটা বা প্লটারের মাধ্যমে প্রদান করে।
এক ধরনের কাজের জন্য তৈরিকৃত এনালগ কম্পিউটার অন্য ধরনের কাজের জন্য ব্যবহার করা যায় না। সেজন্য একেক ধরনের কাজের জন্য একেক ধরনের এনালগ কম্পিউটার তৈরি করা হয়। যেমন; চাপ মাপের জন্য তৈরি এনালগ কম্পিউটার তাপ মাপের কাজে ব্যবহার করা যায় না।
এনালগ কম্পিউটারের কাজের সূক্ষ্মতা কম।
এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার
মোটর গাড়ির স্পিডোমিটার, পাইড রুল, অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি কাজে এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer) ব্যবহার করা হয়।
ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
ডিজিট (Digit) শব্দ থেকে ডিজিটাল (Digital) শব্দের উৎপত্তি। সংখ্যা প্রক্রিয়াকরণের ভিত্তিতে ডিজিটাল (Digital Computer) কাজ করে। ডিজিটাল কম্পিউটার বাইনারী অর্থ্যাৎ ০ (শূন্য) এবং ১ (এক) এ প্রতীক দুটি দিয়ে সব ধরনের কাজ করে। ডিজিটাল কম্পিউটারের বৈশিষ্ট
ফলাফল সরাসরি মনিটরে প্রদর্শিত হয় অথবা অন্য কোন আউটপুট ডিভাইসে প্রদর্শিত হয়।
একই কম্পিউটার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।
কাজের সূক্ষ্মতা শতভাগ (১০০%)।
ডিজিটাল কম্পিউটারের ব্যবহার
আমরা যে সকল কম্পিউটার ব্যবহার করি সেগুলোর বেশিরভাগ সাধারণত ডিজিটাল কম্পিউটার।
হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)
এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে হাইব্রিড কম্পিউটার তৈরি করা হয়।
হাইব্রিড কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য
ইনপুট এনালগ প্রকৃতির তবে, আউটপুট ডিজিটাল প্রকৃতির হয়ে থাকে।
হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহার
হাসপাতালে রোগীর রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, শরীরের তাপ ইত্যাদি নির্ণয় করতে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পরমাণু শক্তি উৎপাদন প্লান্টে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। জঙ্গী বিমান, মহাকাশযান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
আকার, আয়তন ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটারকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
সুপার কম্পিউটার (Super Computer).
মেইন ফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer).
মিনি কম্পিউটার (Mini Computer).
মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার (Micro or Personal Computer)
সুপার কম্পিউটার (Super Computer)
ক্ষমতা ও আকৃতি ইত্যাদির ভিত্তিতে অতি বড় কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে। সুপার কম্পিউটার অনেক শক্তিশালী এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম সুপার কম্পিউটার। তবে, সারা বিশ্বে এ কম্পিউটারের সংখ্যা খুব বেশি নয় ।
সুপার কম্পিউটার এর ব্যবহার
সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
নভোযান, জঙ্গী বিমান পরিচালনায় সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। মহাকাশ গবেষণা কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরও অনেক কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার
বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার হলো Sunway Taihulight (চীন)। সম্প্রতি ভারত ‘পরম’ নামে একটি সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে যা সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)
আকারে সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু পার্সোনাল নয়, এরকম কম্পিউটারকে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বলে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার এমন একটি বড় কম্পিউটার যার সাথে অনেকগুলো কম্পিউটার বা ডাম্ব টার্মিনাল (Dumb terminal) যুক্ত করে এক সাথে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে।
মেইনফ্রেম কম্পিউটার এর ব্যবহার
ব্যাংক, বীমা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বৈজ্ঞানিক কর্ম তৎপরতা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত আইবিএম ১৬২০ কম্পিউটারটি ছিল মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)
আকারে মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় এমন কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বলে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer) এবং মিনি কম্পিউটার (Mini Computer) দিয়ে একই ধরনের কাজ করা যায় । মিনি কম্পিউটার আকারে ছোট ও কাজের ক্ষমতাও কম। মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer)
আকারে মেইনফ্রেম বা মিনি কম্পিউটারের তুলনায় অনেকগুন ছোট এমন কম্পিউটারকে মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer) বলে। এজন্য মাইক্রোকম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা সংক্ষেপে পিসি (PC) বলে।
মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথা-
ডেস্কটপ (Desktop).
ল্যাপটপ (Laptop).
নেটবুক (Netbook).
ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab).
পামপিসি বা পামটপ (Palm PC or Palmtop).
ডেস্কটপ (Desktop Computer)
ডেস্ক বা টেবিলে স্থাপন করে যে মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer) ব্যবহার করা হয় তাকে ডেস্কটপ বলে। এটি টেবিলে স্থাপন করে কাজ করতে হয় এবং সহজে বহন করা যায়না। অফিস আদালতের নানা কাজে ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।
ল্যাপটপ (Laptop)
ল্যাপ (Lap) অর্থাৎ কোলের উপর স্থাপন করে যে কম্পিউারে কাজ করা যায় তাকে ল্যাপটপ বলে। এটি আকারে ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। ল্যাপটপ নোট বক বা পাওয়ার বুক ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ১৯৮১ সালে প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারে আনে এপসম কোম্পানি।
ল্যাপটপের সুবিধাসমূহ
ডেস্কটপ পিসির চেয়ে অনেক ছোট ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।
কোলে উপর নিয়ে কাজ করা যায়।
লোড শেডিংয়ে ডেস্কটপ চালাতে হলে ইউপিএস ব্যবহার করতে হয়। যার ব্যাকআপ টাইম থাকে ১৫-৩০ মিনিট। কিন্তু ল্যাপটপের সাথে ব্যাটারী সংযুক্ত থাকে। বিদ্যুৎ না থাকলে মডেলভেদে ২-৮ ঘণ্টা চালানো যায়।
এটি সহজে বহনযোগ্য। আকারে ডেস্কটপ এর চেয়ে অনেক ছোট ও হালকা। ল্যাপটপ দেখতে অনেকটা ছোট ব্রিফকেসের মত।
এতে মাউসের পরিবর্তে টাচপ্যাড ব্যবহার করা হয়।
ল্যাপটপের অসুবিধাসমূহ
ডেস্কটপ পিসি একস্থানে থাকে । খুব বেশি নড়াচড়া করতে হয়না। যার কারণে হাত থেকে পড়ে বা অন্য কারণে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ল্যাপটপ বহনযোগ্য, তাই হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যেতে পারে।
সাধারণ মানের ল্যাপটপের ক্ষমতা ডেস্কটপ এর তুলনায় অনেক কম। আবার ডেস্কটপের সমান ক্ষমতার ল্যাপটপের দাম আকাশ ছোঁয়া। কাজেই দামের দিক থেকে তুলনা করলে ল্যাপটপের সমকক্ষ ডেস্কটপ পিসির দাম অনেক কম।
ডেস্কটপ এর কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে সহজে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু ল্যাপটপের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি তার দামও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
নেটবুক (Netbook Computer)
পূর্ণ আকারের চেয়ে তুলনামূলক ছোট কী-বোর্ড এবং ফ্লিপ-আপ মনিটর সম্বলিত এক ধরনের মোবাইল কম্পিউটারের নাম নেট বুক। এটি ল্যাপটপের চেয়ে ছোট তবে, পামটপের চেয়ে বড়।
নেটবুক এর সুবিধা
ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ল্যাপটপের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি।
নেটবুক এর মনিটর ও কী-বোর্ড আকারে ছোট ।
ল্যাপটপের তুলনায় নেটবুক এর ওজন অনেক কম।
নেটবুক এর কোন অপটিক্যাল ডাইভ থাকে না।
নেটবুকের দাম ল্যাপটপের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম।
ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab)
ট্যাবলেট পিসি এক ধরনের কম্পিউটার যার স্ক্রীনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। ট্যাবলেট পিসিতে ভয়েস ইনপুট ব্যবস্থা থাকে যার সাহায্যে ব্যবহারকারী কথা বলার মাধ্যমে কম্পিউটারে নির্দেশ বা ডেটা ইনপুট করতে পারেন।
পামপিসি বা পামটপ (Palm Computer or Palmtop)
পাম (Palm) অর্থাৎ হাতের তালুর মধ্যে রেখে যে কম্পিউটারে কাজ করা যায় তাকে পামটপ কম্পিউটার বা পামপিসি বলা হয়। একে পকেট পিসি বা পিডিএ (PDA = Personal Digital Assistance) ও বলা হয় ।


সফটওয়্যার কাকে বলে?
কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলি সম্পাদন করার জন্য কম্পিউটারকে প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশনা প্রদান করতে হয়। এ ধরনের নির্দেশনাবলির সমষ্টিকেই বলা হয় সফটওয়্যার। সফটওয়্যার অদৃশ্য শক্তি। একে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। সাধারণত সফটওয়্যার বলতে কম্পিউটারের প্রোগ্রামসমূহের সমষ্টিকে বোঝানো হয়।
সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি
সফটওয়্যারের ওপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও কাজের গতি অনেকাংশে নির্ভর করে। তবে বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটারের সফটওয়্যারকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা
1. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software) ও
2. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software) বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার
সিস্টেম সফটওয়্যার কাকে বলে
সিস্টেম সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রক। এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারিক প্রোগ্রামের মধ্যে যোগসূত্র রচনা ও রক্ষা করে। সিস্টেম সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার অচল।
তাই কম্পিউটারকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি দরকার তাদেরকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারিক প্রোগ্রাম চালনার জন্য কম্পিউটারকে তৈরি রাখে। আবার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে। DOS, Windows, Xp, Linux, Unix. Mac OS, ইত্যাদি হলো সিস্টেম সফটওয়্যারের উদাহরণ। আবার Compiler Interpreter. Assembler প্রোগ্রামসমূহও সিস্টেম সফটওয়্যারের অন্তর্গত। সিস্টেম সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি
সিস্টেম সফটওয়্যারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট বা সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম (System Management or Control Program)
সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (System Development Program) এবং
সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (System Support Program)
সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট বা সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম
সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের সাহায্যে কম্পিউটার সিস্টেমের সকল অংশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অর্থাৎ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের সাহায্যে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ডেটা প্রোগ্রাম, বিভিন্ন ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আবার এ ধরনের প্রোগ্রাম কম্পিউটারের বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, ইনপুট অংশ হতে ডেটা গ্রহণ ও আউটপুট প্রদর্শন ইত্যাদি কার্যাবলি সম্পাদন করে। সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম নিম্নলিখিত প্রোগ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ১. অপারেটিং সিস্টেম প্রোগ্রাম
২. ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম ও
৩. নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম
সাধারণত সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান করা যায় এবং ব্যবহারিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন করা যায়। আবার সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ব্যবহার করে কম্পিউটারের নতুন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার তৈরি করা যায় এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও করা যায়। সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামকে সাধারণত নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
১. প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ট্রান্সলেটর বা অনুবাদক
২. প্রোগ্রামিং এডিটর টুলস
৩. কম্পিউটার এইডেড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টুলস; ইত্যাদি।
সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম
সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সার্ভিস প্রোগ্রাম, নিরাপত্তা প্রদানের প্রোগ্রাম এবং কাজের হিসাব-নিকাশ ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করা হয়। আবার কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার ত্রুটিমুক্তকরণ ইত্যাদি প্রয়োজনেও সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয়। সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম নিম্নলিখিত প্রোগ্রামগুলো নিয়ে গঠিত।
১. সিস্টেম ইউটিলিটি প্রোগ্রাম
২. সিস্টেম পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম ও
৩. সিস্টেম সিকিউরিটি প্রোগ্রাম।
অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কাকে বলে
অ্যাপ্লিকেশন সফট্ওয়্যার কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক কাজের জন্য তৈরি হয়। কাজের প্রকৃতি অনুসারে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। তাই ব্যবহারকারী যে সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করতে পারে তাকে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলা হয়। যেমন-
1. Word Processing Package Program : Word Star, Word Perfect, Ms-Word, Word Note.
2. Spreadsheet Package Program : Lotus 1-2-3, Ms-Excel, Qrafter Pro.
3. Database Package Program : dBase, Foxpro, Oracle, Informix, Access ইত্যাদি।
অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি
অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম (General Application Program or Package Program) ও
অ্যাপ্লিকেশন সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা কাস্টমাইজড প্রোগ্রাম (Application Specific or Customized Program)
সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম
বাণিজ্যিকভাবে সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরীকৃত সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামকে সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বলা হয়। অর্থাৎ‍ ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরি যে সমস্ত বাণিজ্যিক সফটওয়্যার পাওয়া যায় তাদেরকে সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম বলা হয়।
যেমন- এমএসওয়ার্ড প্রোগ্রামের সাহায্যে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজ করা যায়; এমএস এক্সেল প্রোগ্রামের সাহায্যে হিসাব-নিকাশের কাজ করা যায়; এমএস এক্সেস প্রোগ্রামের সাহায্যে ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করা যায় ইত্যাদি।
মূলত কম্পিউটার ব্যবহারকারীগণ সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রামের সাহায্যে প্রাত্যহিক সমস্যার সমাধান করে থাকেন। উল্লেখযোগ্য সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামগুলো হলো এমএস অফিস, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, নেটস্কেপ নেভিগেটর, নেটস্কেপ কমিউনিকেটর, ইলেকট্রনিক মেইল, পেজ মেকার, ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ইত্যাদি। অ্যাপ্লিকেশন সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা কাস্টমাইজড প্রোগ্রাম
অ্যাপ্লিকেশন সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা কাস্টমাইজড হলো কাজের ধরন ও সমস্যা অনুযায়ী ব্যবহারকারীর জন্য কোনো দক্ষ প্রোগ্রামার বা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা বিশেষভাবে তৈরীকৃত প্রোগ্রাম। সমস্যার ধরন ও প্রকৃতি অনুসারে ব্যবহারকারী অ্যাপ্লিকেশন সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম তৈরি হয়ে থাকে।
যেমন- ব্যাংকিং কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিস কমার্স, পেরোল সিস্টেম ইত্যাদি হলো অ্যাপ্লিকেশন সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম। কাস্টমাইজড প্রোগ্রাম মূলত ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।