প্রেসক্রিপশন অর্থ রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকগণের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র, prescription,
প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রের সূচনায় চিকিৎসকগণ সাধারণত ‘Rx’ লিখে থাকেন। কেন এটি লেখা হয় এ নিয়ে কয়েকটি মতবাদ প্রচলিত আছে। মতবাদ গুলো নিচে দেওয়া হলো।

প্রথম মতবাদটি জুপিটার বা বৃহস্পতি মতবাদ নামে পরিচিত।
এই মতবাদিগণের মতে, Rx হচ্ছে বৃহস্পতি বা জুপিটার গ্রহের জ্যোতির্বৈদ্যিক চিহ্ন। এই গ্রহটি রোমান দেবতাদের রাজা এবং সবচেয়ে ক্ষমতাবান। তাই প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম লেখার পূর্বে Rx চিহ্নটি লেখা হয়। যাতে প্রেসক্রিপশনে বিবৃত পথ্যের ওপর তথা রোগীর উপশমে দেবরাজ জুপিটার শুভদৃষ্টি দেন। কথিত হয়, Rx চিহ্ন থাকলে ওই প্রেসক্রিপশন অতি কার্যকর হয়।

দ্বিতীয় মতবাদ, অনেকে বলেন, প্রাচীন একটি ল্যাটিন শব্দ থেকে RX প্রতীকটি এসেছে। এই শব্দটি হলো Recipe, যার অর্থ, ‘আপনি নিন বা আপনি গ্রহণ করুন’। প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে ‘উটচাট’ বা ‘হোরাসের চোখ’ নামে এক ধরনের কবচের প্রচলন ছিল। হোরাস ছিলেন স্বাস্থ্য দেবতা। ‘হোরাসের চোখ’ নামে যে কবচ প্রচলিত ছিল তা অনেক রোগ প্রতিরোধ করত বলে বিশ্বাস করা হতো। এ কবচের প্রাথমিক আকৃতি অনেকটা হেরাসের চোখের মতো ছিল। তবে এটা নানান জিনিস দিয়ে তৈরি করা হতো। এভাবে এটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে এবং কালক্রমে ব্যবস্থাপত্রে চলে আসে। তবে চিহ্নটি ব্যবস্থাপত্রে ব্যবহৃত হওয়ার পেছনে দেবতার অনুগ্রহের ওপর বিশ্বাসই যে অন্যতম নিয়ামক ছিল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তৃতীয় মতবাদকে জেসাস মতবাদ বলা হয়। এই মতানুসারে, Rx = R = Refer to এবং X = Jesus Christ, অর্থাৎ Rx = Refer to Jesus Christ। এর অর্থ হলো‘ যিশুর নামে পড়া শুরু করুন’ বা যিশুর নামে গ্রহণ করা শুরু করুন বা যিশুর নামে শুরু করুন। ‘X’ দ্বারা যিশু খ্রিষ্টকে বোঝানো হয়। যেমন Xmas দ্বারা বোঝানো হয় ক্রিসমাস। এর দ্বারা মূলত গ্রিক ভাষায় সংক্ষেপে যিশুকে বোঝানো হয়ে থাকে।



১. ওষুধের বিভিন্ন ধরন বোঝাতে যে সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করেন
tab = ট্যাবলেট = tablet.
Cap = ক্যাপসুল = Capsule.
Syp = সিরাপ = Syrup.
Inj = ইনজেকশন = injection.
IV Inj = শিরায় ব্যবহৃত ইনজেকশন = injection Iv.
IM Inj = মাংসপেশিতে ব্যবহৃত ইনজেকশন = injection IM.
oint = মলম = ointment.

২. কখন ও কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত নাম
আর এক্স: চিকিৎসা
কিউ: প্রত্যেক
কিউ ডি: প্রতি দিন
কিউ ও ডি: এই দিন ছাড়া প্রতিদিন
কিউ এইচ: প্রতি ঘণ্টায়
এস: বাদ দিয়ে
সি: সঙ্গে
এস ও এস: জরুরি ভিত্তিতে করণীয়
এ সি: খাবার খাওয়ার আগে
পি সি: খাবার খাওয়ার পরে
বি আই ডি: দিনে দুবার
টি আই ডি: দিনে তিনবার
বি ডি/ বি ডি এস: দিনে দুবার ওষুধ নিতে হবে
টি ডি এস: দিনে তিনবার ওষুধ নিতে হবে
কিউ টি ডি এস: দিনে চারবার ওষুধ নিতে হবে
বিটি: শোয়ার সময়
বিবিএফ: প্রাতরাশের আগে

৩. শরীর সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত ব্যবহার করা নাম বা অক্ষর
Bp = ব্লাড প্রেশার বা রক্তের চাপ
HR = হার্ট রেট বা হৃদ্‌স্পন্দন
PR = পালস রেট
T = তাপমাত্রা
BSF = ব্লাড সুগার ফাস্টিং
usg = আল্ট্রাসনোগ্রাফি
CXR = চেস্ট/বুক এক্সরে
RR = রেসপিরেশন বা শ্বাসপ্রশ্বাস

৪. প্রেসক্রিপশনে ব্যবহৃত কিছু সংক্ষিপ্ত নাম
OPD = আউট পেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট। অর্থাৎ, রোজ যে রোগী হাসপাতালে ডাক্তার দেখান কিন্তু ভর্তি থাকেন না, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে OPD ব্যবহার করা হয়।
IPD = ইন পেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট। অর্থাৎ, হাসপাতলে ভর্তি থেকে চিকিৎসা করান, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে IPD ব্যবহার করা হয়।
C/O = কেয়ার অফ। অর্থাৎ, রোগী যখন তার শারীরিক সমস্যা ডাক্তারকে বলেন, সে ক্ষেত্রে কেয়ার অফ লিখে সে সমস্যাগুলো লিখে রাখেন।
o/e = অন এক্সামিনেশন। অর্থাৎ, ডাক্তার রোগীকে দেখে যা বোঝেন, তা লিখে রাখেন অন এক্সামিনেশন লেখার পর।
Rx = প্রেসক্রিপশন। অর্থাৎ, রোগীকে যে ওষুধগুলো বলবেন, সেগুলো লেখার আগে Rx লেখেন।
Hx = হিস্ট্রি। অর্থাৎ, রোগীর আগে যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলো লিখে রাখেন।
Sx = সিমটমস। অর্থাৎ, রোগীর কী কী লক্ষণ রয়েছে।
Dx = ডায়াগনসিস। অর্থাৎ রোগী কি রোগে ভুগছেন, সেটি পরীক্ষার পর লিখে রাখেন।

৫. ওষুধের পরিমাণ বা ডোজ
ml = মিলি লিটার
mg = মিলি গ্রাম
তবে মনে রাখবেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানভেদে এই সংকেত বদলাতেও পারে। অনেক সময় চিকিৎসকরা অন্যভাবেই নির্দেশ লিখতে পারেন। ফলে এ-সংক্রান্ত কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে সরাসরি চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করাই ভালো