|
Meta Tag Meta Tag (মেটা ট্যাগ) হলো HTML কোডের এমন কিছু উপাদান (Elements), যা একটি ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা পেজ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সার্চ ইঞ্জিন এবং ব্রাউজারকে প্রদান করে। এই ট্যাগগুলো ভিজিটররা সরাসরি ওয়েবসাইটের পেজে দেখতে পান না, কিন্তু ব্যাকএন্ডে এগুলো সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার (যেমন: Googlebot) এবং ব্রাউজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে মেটা ট্যাগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: মেটা ট্যাগ কোথায় থাকে? একটি HTML ডকুমেন্টের সেকশনের (অর্থাৎ এবং ট্যাগের মাঝখানে) মেটা ট্যাগগুলো স্থাপন করতে হয়। প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ মেটা ট্যাগসমূহ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং SEO (Search Engine Optimization) এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেটা ট্যাগ ব্যবহার করা হয়। নিচে এগুলোর বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. Meta Description Tag এটি SEO-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেটা ট্যাগগুলোর একটি। একটি পেজে কী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ এখানে লিখতে হয়। ২. Meta Charset Tag (Character Encoding) একটি ওয়েবপেজে টেক্সট বা ক্যারেক্টারগুলো কীভাবে প্রদর্শিত হবে তা এই ট্যাগ নির্ধারণ করে। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে UTF-8 ব্যবহার করা হয়, যা বাংলাসহ প্রায় সব ভাষার অক্ষর সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে সাহায্য করে। ৩. Meta Viewport Tag (Responsive Design) বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ভিজিটর মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। এই ট্যাগটি ব্রাউজারকে নির্দেশ দেয় যে পেজটি যেন ডিভাইসের স্ক্রিনের সাইজ অনুযায়ী সঠিকভাবে ফিট বা রেসপন্সিভ হয়। ৪. Meta Robots Tag এই ট্যাগের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলারদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে তারা পেজটি ইনডেক্স (সংরক্ষণ) করবে কি না, কিংবা পেজের লিংকগুলো অনুসরণ (Follow) করবে কি না। ৫. Open Graph (OG) Meta Tags এই ট্যাগগুলো বিশেষভাবে ফেসবুক, লিঙ্কডইন বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। যখন আপনার ওয়েবসাইটের কোনো লিংক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়, তখন সেখানে কী ছবি, টাইটেল বা ডেসক্রিপশন দেখাবে—তা এই ট্যাগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মেটা ট্যাগের গুরুত্ব (Importance of Meta Tags) একটি ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা, কার্যকারিতা এবং ভিজিটর বাড়ানোর পেছনে Meta Tag ব্যাকএন্ডে থেকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। সহজ কথায়, সার্চ ইঞ্জিন, ব্রাউজার এবং সোশ্যাল মিডিয়া যাতে আপনার ওয়েবসাইটকে সঠিকভাবে বুঝতে ও প্রদর্শন করতে পারে, সেজন্যই মেটা ট্যাগ প্রয়োজন। |
|
CMS এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, পিএইচপি ইত্যাদি ব্যবহার করে কোন ওয়েব পেজ তথা ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে এই সকল কোড গুলো একটি একটি করে লিখতে হয় বা বিভিন্ন স্থান থেকে copy – pest করে আনা হয়। এটা অনেক সময়সাধ্য ও জটিল কাজ। এর জন্য একাগ্রতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। Content Management System বা CMS হল এমন একটি সফটওয়্যার যা, আপনার হয়ে এই প্রোগ্রামিং কোড গুলো নির্ভুল ভাবে তৈরি করে দেয়। CMS ব্যবহার করে খুব সহজেই কোন ওয়েব সাইট তৈরি করা যায়, যেখানে CMS ব্যাবহার না করে সরাসরি কোড গুলো লিখতে হলে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। CMS এ কেবল কোন কন্টেন্ট যা হতে পারে কোন লেখা বা text, কোন ছবি বা image ইত্যাদি, ওয়েব পেজের কোথায় অবস্থান করবে, কি রকম স্টাইল হবে ইত্যাদি এগুলো নির্ধারণ করে দিতে হয়, এইচটিএমএল কোড বা সিএসএস স্টাইল কোড বা অন্য কোন কোড লিখতে হয় না। CMS ই আপনার হয়ে এই কোড গুলো তৈরি করবে এবং আপনার প্রয়োজন মত আপনি নিজেও মূল কোডে অন্য কোন কোড লিখতে বা যুক্ত করতে পারবেন। |
|
প্রোগ্রামিং ভাষা প্রোগ্রামিং ভাষা হল একটি আনুষ্ঠানিক ভাষা যা নির্দেশনামূলক সেট বা কমান্ডগুলি দ্বারা কম্পিউটারকে নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম করে। প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে ডেভেলপাররা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সাথে যোগাযোগ করে এবং কম্পিউটারকে নির্দিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদন করতে নির্দেশনা দেয়। প্রোগ্রামিং ভাষার প্রকারভেদ: প্রোগ্রামিং ভাষাগুলি বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। প্রধানত তিনটি ধরণের প্রোগ্রামিং ভাষা রয়েছে: # Low-Level Language # Mid-Level Language # High-Level Language 1.Low-Level Language >>এই ভাষাগুলি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের কাছাকাছি এবং মেশিনের সরাসরি বোঝার উপযোগী। Low level Language আবার দুই প্রকার। যথাঃ >> Machine Language: এটি সরাসরি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বোঝে এবং বাইনারি (০ ও ১) কোডে লেখা হয়। >> Assembly Language: এটি মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের উপর একটি অ্যাবস্ট্রাকশন যেখানে বাইনারি কোডের পরিবর্তে সহজবোধ্য সংক্ষিপ্ত নোটেশন ব্যবহার করা হয়। (এটি মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের উপর একটি স্তর, যেখানে মেমনিক কোড ব্যবহার করে নির্দেশনা লেখা হয়।) 2.Mid-Level Language>>মিড লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজগুলি হাই লেভেল এবং লো লেভেল ভাষার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। উদাহরণ: C ভাষা। C ভাষা সরাসরি হার্ডওয়্যারের সাথে কাজ করতে পারে কিন্তু এটি উচ্চ স্তরের ভাষার মতও ব্যবহার করা যায়। 3. High-Level Language>>এই ভাষাগুলি মানুষের ভাষার কাছাকাছি এবং ব্যবহার করা সহজ। High level Language আবার দুই প্রকার। যথাঃ >> POP= Procedural Oriented Programming: Procedural Oriented Programming হল একটি প্রোগ্রামিং পদ্ধতি যা প্রোগ্রামের ক্রমানুসারে কার্যাবলী (প্রসিডিউর) এবং ফাংশনগুলি ব্যবহার করে। এতে প্রোগ্রামিং ভাষার ধাপগুলো সুস্পষ্ট এবং লজিক্যাল সিরিজে সাজানো হয়। বৈশিষ্ট্যসমূহ: ফাংশন ভিত্তিক: প্রোগ্রামটি বিভিন্ন ফাংশনের সমন্বয়ে গঠিত হয়। গ্লোবাল ডেটা: ডেটাগুলি প্রোগ্রামের গ্লোবাল অংশে সংরক্ষিত হয় এবং ফাংশনগুলি সেই ডেটার উপর কাজ করে। সংকীর্ণ ফোকাস: একটি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রোগ্রামগুলি ধাপে ধাপে কাজ করে। উদাহরণ: C, Fortran, Pascal, BASIC। >> OOP=Object Oriented Programming: Object Oriented Programming হল একটি প্রোগ্রামিং পদ্ধতি যা প্রোগ্রামের সমস্ত কিছুকে অবজেক্ট বা বস্তু হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিটি অবজেক্ট ডেটা এবং ফাংশন উভয়ই ধারণ করে, যা একে সম্পূর্ণ বস্তু হিসেবে গঠন করে। বৈশিষ্ট্যসমূহ: ক্লাস এবং অবজেক্ট: প্রোগ্রামটি ক্লাস এবং অবজেক্ট দ্বারা গঠিত হয়। ইনহেরিটেন্স: একটি ক্লাস অন্য একটি ক্লাসের বৈশিষ্ট্য এবং পদ্ধতিগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে পারে। পলিমরফিজম: একাধিক ফর্ম বা ধরণের ফাংশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এনক্যাপসুলেশন: ডেটা এবং ফাংশন একত্রে ক্লাসে আবদ্ধ থাকে। উদাহরণ: Java, C++, Python, Ruby। |
|
WordPress WordPress নিয়ে কাজ শুরু করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হলো: ১. মৌলিক ধারণা অর্জন প্রথমে WordPress কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে ধারণা নিন। এর জন্য আপনি WordPress এর অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন বা বিভিন্ন অনলাইন টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন। ২. WordPress ইনস্টল করা আপনার নিজের কম্পিউটার বা একটি লাইভ সার্ভারে WordPress ইনস্টল করে নিন। আপনার কম্পিউটারে ইনস্টল করতে চাইলে Local by Flywheel বা XAMPP ব্যবহার করতে পারেন। একটি লাইভ সার্ভারে ইনস্টল করতে চাইলে একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং সার্ভিস কিনতে হবে। ৩. মৌলিক সেটআপ ড্যাশবোর্ড পরিচিতি: WordPress ড্যাশবোর্ডে লগইন করে এর বিভিন্ন অপশন এবং সেটিংস সম্পর্কে জানুন। থিম ইনস্টল: থিম নির্বাচন এবং ইনস্টল করার প্রক্রিয়া শিখুন। আপনি WordPress এর ডিফল্ট থিম বা থার্ড-পার্টি থিম ব্যবহার করতে পারেন। প্লাগইন ইনস্টল: প্রয়োজনীয় প্লাগইন ইনস্টল করে তাদের ব্যবহার শিখুন। যেমন: Yoast SEO, Contact Form 7, WooCommerce ইত্যাদি। ৪. কনটেন্ট তৈরি করা পোস্ট ও পেজ তৈরি করা: কিভাবে নতুন পোস্ট এবং পেজ তৈরি করবেন তা শিখুন। কনটেন্ট এডিটর ব্যবহার: WordPress এর ব্লক এডিটর (Gutenberg) এবং ক্লাসিক এডিটর ব্যবহার শিখুন। মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট: ইমেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য মিডিয়া ফাইল আপলোড এবং ম্যানেজ করার পদ্ধতি জানুন। ৫. থিম কাস্টমাইজেশন CSS ও HTML: বেসিক HTML ও CSS এর ধারণা থাকা ভালো। PHP: WordPress এর থিম এবং প্লাগইন কাস্টমাইজ করতে PHP জানা প্রয়োজন। Child Theme তৈরি: থিমের পরিবর্তন করতে Child Theme ব্যবহার শিখুন যাতে মূল থিম আপডেটের সময় আপনার পরিবর্তনগুলো হারিয়ে না যায়। ৬. প্লাগইন ডেভেলপমেন্ট প্লাগইন তৈরির বেসিক ধারণা: কিভাবে একটি সাধারণ প্লাগইন তৈরি করবেন তা শিখুন। WordPress Codex: WordPress এর Codex এবং API Reference ব্যবহার করে কিভাবে কাস্টম ফাংশনালিটি যোগ করবেন তা জানুন। ৭. সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ সিকিউরিটি: WordPress সাইট সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি শিখুন, যেমন: শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সিকিউরিটি প্লাগইন ইনস্টল করা। ব্যাকআপ: নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়ার পদ্ধতি জানুন। যেমন: UpdraftPlus বা BackWPup প্লাগইন ব্যবহার করা। ৮. SEO (Search Engine Optimization) SEO বেস্ট প্র্যাকটিস: কিভাবে সাইটের SEO উন্নত করবেন তা শিখুন। SEO প্লাগইন: Yoast SEO বা All in One SEO Pack প্লাগইন ব্যবহার করে কিভাবে SEO সেটিংস কনফিগার করবেন তা জানুন। ৯. কমিউনিটি ও সাপোর্ট ফোরাম ও গ্রুপ: WordPress এর ফোরাম এবং ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হন যেখানে আপনি বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। ডকুমেন্টেশন: WordPress.org এর অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন এবং টিউটোরিয়াল নিয়মিত পড়ুন। আপনি যদি উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করেন, তবে WordPress নিয়ে কাজ শুরু করতে আপনার খুব একটা সমস্যা হবে না। প্র্যাকটিসের মাধ্যমে এবং প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। |
|
Wordpress Website >> ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমে একটি ওয়েব ব্রাউজার ওপেন করি। >> ব্রাউজারের এ্যাড্রেস বারে লিখি www.wordpress.com এবং এন্টার দেই। >> আপনার সামনে ওয়ার্ডপ্রেসের মূল ওয়েব সাইটটি ওপেন হবে। এখান থেকে Get started এ ক্লিক করি। >> একটি ই-মেইল এ্যাড্রেস চাইবে। ই-মেইল এ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করি। >> Create a new site এ ক্লিক করি। >> একটি নতুন পেজ আসবে সেখান থেকে Choose your domains এর নিচে সার্চ বারে আপনার পছন্দের ডোমেইনের নাম লিখে সার্চ দিন। ডোমেইন হলো আপনার ওয়েব সাইটের ওয়েব এ্যাড্রেস এর নাম । আপনি যদি আপনার ডোমেইন নেম sultaniamadrasah দেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের ওয়েব এ্যাড্রেস হবে sultaniamadrasah.wordpress.com >> পছন্দের ডোমেইনটি যদি ফ্রি না থাকে তাহলে অন্য একটি ডোমেইন পছন্দ করুন, এবং ফ্রি বাটনে ক্লিক করুন। continue বাটনে ক্লিক করুন। >> Start with free বাটনে ক্লিক করুন। >> Select all that apply থেকে Write & publish সিলেক্ট করে continue বাটনে ক্লিক করুন। >> Blog name এবং Tagline দিয়ে continue বাটনে ক্লিক করুন। >> Start Writing বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সাইট তৈরি হয়ে যাবে >> আপনার ওয়েবসাইটের ড্যাসবোর্ডে আসুন। >> একটি নতুন পোস্ট তৈরি করুন এবং পাবলিস্ট করুন। >> ব্রাউজারের এ্যাড্রেস বারে লিখুন sultaniamadrasah.wordpress.com এবং এন্টার দিন, এটি হলো আপনার ওয়েবসাইট >>> ধন্যবাদ । |
|
কিভাবে একটি Google sites তৈরি করতে হয় তার বর্ণনা । > প্রথমে আমরা যে কোন একটি ওয়েব ব্রাউজার ওপেন করব। যেমন- গুগোল ক্রম, মজিলা ফায়ার ফক্স ইত্যাদি। > ওয়েব ব্রাউজারের এ্যাড্রেস বারে লিখব http://sites.google.com এবং কী বোর্ড থেকে এন্টার কী চাপব। > এর পর একটি G-mail একাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করতে হবে। আর যদি আপনি গুগলে সাইন ইন করা থাকেন তাহলে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে। > একটি নতুন পেজ ওপেন হবে যার এ্যাড্রেস বারে লেখা থাকবে https://sites.google.com/new > আপনার নতুন কোনো সাইট ইতিপূর্বে খোলা থাকলে তা এখানে দেখাবে। আপনি আর একটি নতুন সাইট খুলতে চাইলে ডান পাশে নীচে একটি প্লাস সাইন ( + ) দেখতে পাবেন। প্লাস সাইন এর উপর মাউস পয়েন্টার রাখলে দুইটি অপশন দেখা যাবে। Create new site, choose template > Create new site এ ক্লিক করে নতুন সাইট তৈরি করার কাজ শুরু করা যাবে। আবার Choose template এ ক্লিক করে সেখান থেকে পছন্দের টেমপ্লেট বাছাই করে নতুন সাইট তৈরি করা যাবে। > যে কোন একটি অপশন পছন্দ করে গুগল সাইটে প্রবেশ করি । আপনার সামনে যে টেমপ্লেট টি প্রদর্শিত হবে তার উপরে ডান পাশে দেখা যাবে Untitled site লেখা রয়েছে এখানে ক্লিক করে আপনি সাইটের নাম দিতে পারেন। সাইটের নামের উপর মাউস রাখলে Add logo অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে চাইলে একটি লোগো যোগ করতে পারেন । > সাইটের উপরে একটি Your page title বক্স রয়েছে সেখানে আপনার পেজের টাইটেল দিতে পারেন। টাইটেল বক্সে ক্লিক করলে একটি অপশন আসবে যেখান থেকে টাইটেল ইডিট করা যাবে। > Heder Type থেকে হেডারের ধরন পরিবর্তন করা যায়। > ডান পাশে রয়েছে তিনটি অপশন - Insert, Pages, Themes > Insert থেকে পেজের কন্টেট কি স্টাইলে হবে তা পছন্দ করে কন্টেট লেখা যায়। এবং গুগলের বিভিন্ন সফটওয়্যার যুক্ত করা যায় > Pages থেকে নতুন পেজ যোগ করা যায়। > Themes থেকে পেজের স্টাইল পরিবর্তন করে নতুন পেজ তৈরি করা যায়। > আরো অনেক অপশন রয়েছে যেগুলোতে ক্লিক করে আরো অনেক কাজ করা সম্ভব। সব কাজ শেষ করে publish বাটনে ক্লিক করতে হয়। |
|
নেটওয়ার্ক কী? কত প্রকার ও কি কি ? উত্তরঃ একাধিক কম্পিউটারকে পরস্পরের সাথে জুড়ে দিলে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক চার প্রকার। ১। PAN-Personal Area Network-(ব্যক্তিগত পর্যায়ের নেটওয়ার্ক কৌশল। যেমন bluetooth ) 2. LAN-Local Area Network (একই ভবনে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় ) 3. MAN -Metropolitan Area Network(একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা শহরে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় । ) 4. WAN-Wide Area Network ( দেশ বা পৃথিবী জুড়ে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় ) নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? একটি কম্পিউটারের সাথে অপর একটি কম্পিউটার কী কৌশলে যুক্ত হবে সে কৌশলই হচ্ছে নেটওয়ার্ক টপোলজি। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ছয় ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যবহৃত হয়েছে। যথা- ১। বাস টপোলজি (Bus Topology). ২। রিং টপোলজি (Ring Topology). ৩।স্টার টপোলজি (Star Topology). ৪। ট্রি টপোলজি (Tree Topology). ৫। মেশ টপোলজি (Mesh Topology). ৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology) রাউটার কী? উত্তরঃ এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠানোর পদ্ধতিকে বলে রাউটিং । আর যে ডিভাইস রাউটিং এর কাজ করে তাকে বলে রাউটার। সাটেলাইট কী? উত্তরঃ স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রকৃয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ। এটি পৃথিবী হতে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উপরে একটা নির্দিষ্ট কক্ষপথে রাখতে হয়। সাবমেরিন ক্যাবল কী? উত্তরঃ সাগরের তল দিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে কিংবা এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যে অত্যান্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তাকে আমরা সাবমেরিন ক্যাবল বলে থাকি। সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থায় আমরা অপটিক্যাল ফাইবার বা আলোক তন্তুর বহুল ব্যবহার দেখতে পাই যা অত্যান্ত দ্রুত গতি সম্পন্ন । জিপিএস কী? উত্তরঃ জিপিএস হলো গ্লোবাল পজিশন সিস্টেম- এর সাহাযে পৃথিবীর যে কোনো স্থানের অবস্থান সম্পর্কে নিখুতভাবে জানা যায়। কে? কী জন্য বিখ্যাত? >> আধুনিক কম্পিউটারের জনক- চার্লস বাবেজ প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক- অ্যাডা লাভলেস। মোবাইল ফোনের আবিষ্কারক- ড. মার্টিন কুপার। ই-মেইল সিস্টেম চালু করেন- রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন । অ্যাপল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা- স্টিভ জবস। মাইক্রোসফ্টের প্রতিষ্ঠাতা- বিল গেটস । ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক- টিম বার্নার্স লি। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা- মার্ক জুকারবার্গ । কম্পিউটার ভাইরাস কি? কত প্রকার ও কি কি? উত্তরঃ VIRUS এর পূর্ণরূপ হল-Vital Information and Resources Under Siege. ১৯৮৩ সালে ফ্রেড কোহেন কম্পিউটার ভাইরাসের নামকরণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা তথ্য ও উপাত্তকে আক্রমন করে এবং নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কম্পিউটার ভাইরাস এমন এক ধরনের ফাইল বা প্রোগ্রাম যেগুলো কম্পিউটারের স্বাভাবিক ফাইল বা প্রোগ্রামকে নষ্ট করে দিতে পারে। ইহা ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত নিজেরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে। সাধারণত সিডি, পেনড্রাইভ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাস এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে। কম্পিউটার ভাইরাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত বা কমন এমন ৯ টি ভাইরাস হলোঃ ১. রিসাইডেন্ট ভাইরাস (Resident virus): এটিকে বাসিন্দা বা আবাসিক ভাইরাস বলা যায়। রিসাইডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের র্যামে (RAM) বসবাস করে কম্পিউটারের সিস্টেমকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ভাইরাস এতোই ছদ্মবেশে থাকে যে, এ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার থেকেও নিজেকে আড়াল করতে পারে। ২. মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস (Multipartite Virus): মাল্টিপার্টাইট বা বহুদলীয় ভাইরাসটি পুরো সিস্টেমকে সংক্রমিত করে। ব্যবহারকারীর অনুমতিবিহীন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে এটি অপারেটিং সিস্টেম, ফোল্ডার ও প্রোগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। ৩. ডাইরেক্ট এ্যাকশন ভাইরাস (Direct Action Virus): এই ভাইরাসটি একটি নির্দিষ্ট ফাইলের ধরণকে লক্ষ্য করে সরাসরি কাজ করে থাকে। সাধারণত এগুলো এক্সিকিউটেবল ফাইল(.exe) হয়, ফাইলগুলোর প্রতিলিপি বা কপি তৈরি করে সংক্রমিত করে। তবে এই ভাইরাসের লক্ষ্যযুক্ত প্রকৃতির কারণে একে সনাক্ত ও দূর করা সহজতর। ৪. ব্রাউজার হাইজাকার (Browser Hijacker): এই ধরনের ভাইরাস ওয়েব ব্রাউজারকে সংক্রমিত করে, ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এই ভাইরাস সহজেই সনাক্ত করা যায়। ৫. ওভাররাইড ভাইরাস (Overwrite Virus): একটি সিস্টেম সংক্রমিত হওয়ার পর, ওভাররাইট ভাইরাস তার নিজস্ব কোড দ্বারা ফাইলের কনটেন্টকে ওভাররাইট করা শুরু করে। এই ভাইরাস নির্দিষ্ট ফাইল বা এ্যাপ্লিকেশনকে টার্গেট করে সংক্রমিত করতে সক্ষম। ক্রমাগতভাবে এটি একটি ডিভাইসের সম্পূর্ণ ফোল্ডার ও ফাইলের ডাটা ধ্বংস করে দিতে পারে। ৬. ওয়েব স্ক্রিপটিং ভাইরাস(Web Scripting Virus): ইহা খুবই ছদ্মবেশী ভাইরাস। এগুলো একটি ওয়েবসাইটের লিংকস, এ্যাড, ইমেজ, ভিডিও এবং কোডের কোডিং এ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব আক্রান্ত ফাইল ডাউনলোড করে কিংবা ওয়েব সাইট পরিদর্শন করে তখন এটি ডিভাইসকে সংক্রমিত করতে পারে। ৭. ফাইল ইনফেক্টর(File Infector): ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস এক্সিকিউটেবল ফাইলকে(.exe) টার্গেট করে থাকে। ব্যবহারকারী এই ফাইলকে রান করলে ভাইরাস প্রোগ্রামকে স্লো করে দিতে পারে এবং সিস্টেম ফাইলকে ড্যামেজ করে দিতে পারে। ৮. নেটওয়ার্ক ভাইরাস(Network Virus): নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে এবং রিসোর্স শেয়ার করলে এরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে। ৯. বুট সেক্টর ভাইরাস(Boot Sector Virus): এই ভাইরাস সহজে এড়ানো সম্ভব। এই ধরনের ভাইরাস সাধারণত পেনড্রাইভ বা ইমেলের ফাইলের সাথে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। যখন এটি সক্রিয় হয় তখন সিস্টেমের ক্ষতি করার জন্য মাস্টার বুট রেকর্ডকে সংক্রমিত করতে পারে। কম্পিউটার কাকে বলে? কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র, যা নিজস্ব স্মৃতিভাণ্ডারে একাধিক কাজের নিদের্শাবলি সংরক্ষণ করে রাখে। ব্যবহারকারী ডেটা বা উপাত্ত সরবরাহ করলে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসেসিং করে কাজের ফলাফল প্রদান করে। কম্পিউটারের ফলে মানুষের জীবন আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে। মানুষের মধ্যে ক্লান্তিহীনতা ও নিদ্রা আসলেও কম্পিউটারের কোন ক্লান্তিহীনতা ও নিদ্রা নেই। কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে? কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যা সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। কম্পিউটারে কাজ করার গতি ন্যানোসেকেন্ড (NS) এ হিসেব করা হয়। কম্পিউটারের ভিতর অনেক বর্তনী রয়েছে। ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। কম্পিউটার নিজে কাজ করতে পারেনা। কম্পিউটারের কাজের জন্য কমান্ড দিতে হয়। কমান্ড দেওয়ার জন্য কম্পিউটারের বিশেষ ভাষা রয়েছে। কম্পিউটারের বোধগম্য এ ভাষার মাধ্যমে কম্পিউটারে যে নির্দেশ দেয়া হয় সেই নির্দেশ অনুয়ায়ী কম্পিউটার কাজ করে। কম্পিউটারের এ নির্দেশাবলিকে বলা হয় প্রোগ্রাম। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ছাড়া একটি জড় পদার্থ। উপযুক্ত প্রোগ্রামের ফলে কম্পিউটার জড় পদার্থ থেকে গাণিতিক শক্তিসম্পন্ন বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণত হতে পারে। কম্পিউটারের কাজ কম্পিউটার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো- কম্পিউটার ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম (Programs) কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমোরিতে সংরক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ মোতাবেক প্রোগ্রাম নির্বাহ (Execute) করে। কম্পিউটার কী-বোর্ড, মাউস, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমে ডেটা (Data) গ্রহণ করে । কম্পিউটার ডেটা (Data) গ্রহণ করার পর ডাটা প্রক্রিয়াকরণ (Process) করে। ডাটা প্রক্রিয়াকরণ (Process) সম্পন্ন হলে মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার ইত্যাদির মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করে। অন্যান্য যন্ত্রের মতো কম্পিউটারেরও নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ্য করা হলো- ১. দ্রুতগতি (High speed): কম্পিউটার অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। এটি সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব করতে পারে। কম্পিউটারের কাজের গতি মিলি সেকেন্ড, মাইক্রোসেকেন্ড, ন্যানোসেকেন্ড, পিকোসেকেন্ড ইত্যাদিতে ভাগ করা যায়। ২. নির্ভুলতা (Correctness): কম্পিউটার একটি যন্ত্র। এটি নিজে কাজ করতে পারেনা। ব্যবহারী যে নির্দেশ দেয় সে হিসাবে কম্পিউটার কাজ করে। কম্পিউটার নিজে কখনো ভুল করেনা তবে ব্যবহারকারী ভুল করলে ফলাফল ভুল দেখায়। কম্পিউটারের নির্ভুলতা শতকরা ১০০ ভাগ। ৩. সূক্ষ্মতা (Accuracy) : কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি। এটি যন্ত্র হলেও অনেক সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। ৪. বিশ্বাসযোগ্যতা (Reliability): কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যা নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। কম্পিউটারের কাজের কোন ভুল নাই। মানুষ বা কম্পিউটার ব্যবহারকারী ভুল করতে পারে কিন্তু কম্পিউটার ভুল করেনা। এটা প্রমাণিত। ৫. ক্লান্তিহীনতা (Dilligence): কম্পিউটার যেহেতু একটি যন্ত্র তাই এটির কোন ক্লান্তি নাই। ব্যবহারকারীর কমান্ড মোতাবেক সারাক্ষণ কাজ করে যায়। সারাক্ষণ কাজ করলেও উৎসাহ, মনোযোগ ইত্যাদির ঘাটতি হয়না। ৬. স্মৃতিশক্তি (Memory): কম্পিউটারের নিজস্ব স্মৃতিশক্তি (Memory) রয়েছে। সেখানে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর তথ্য জমা রাখে, পক্রিয়া করে ফলাফল প্রদান করে। ৭. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation): কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবেও কাজ করতে পারে। সেজন্য মানুষের পরিবর্তে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৮. যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত (Logical decision): কম্পিউটার তথ্য উপস্থাপন করে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। ৯. বহুমুখিতা (Versatility): বহুমুখী কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে শিক্ষা থেকে শুরু করে সকল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০. অসীম জীবনীশক্তি (Endless life): পোগ্রামের মাধ্যমে কম্পিউটার চালানো হয়। এর কোন মৃত্যু নেই। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও কম্পিউটার পোগ্রামের কোন ক্ষতি হয়না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার বর্তমানে মানব জীবনের সাথে জড়িত প্রায় সকল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। নিম্নে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো- ১. অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন জায়গায় লেখালেখির কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ২. বিভিন্ন ব্যাংক, শেয়ার বাজার ও ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে টাকা পয়সার হিসাব করতে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৪. শিল্প কারখানায় যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৫. যন্ত্রপাতি, জাহাজ, এ্যারোপ্লেন, মোটরগাড়ি, ঘরবাড়ি ইত্যাদি ডিজাইন করতে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৬. শিক্ষাক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৭. এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৮. বিনোদনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামূলক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ১০. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট কেনা বেচায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ১১. সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ১২. আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আরও অনেক কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারের প্রকারভেদ গঠন এবং কাজের ভিত্তি করে কম্পিউটারকে তিনভাগে ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- এনালগ কম্পিউটার (Analog computer). ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer). হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer). এনালগ কম্পিউটার (Analog computer) Analogy থেকে Analog শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হলো হচ্ছে সাদৃশ্য। এনালগ সংকেতের মাধ্যমে অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog Computer) কাজ করে। এনালগ কম্পিউটারের বৈশিষ্ট এনালগ সংকেত পর্যায়ক্রমে উঠানামা করে। এনালগ কম্পিউটার আউটপুট সাধারণত কাঁটা বা প্লটারের মাধ্যমে প্রদান করে। এক ধরনের কাজের জন্য তৈরিকৃত এনালগ কম্পিউটার অন্য ধরনের কাজের জন্য ব্যবহার করা যায় না। সেজন্য একেক ধরনের কাজের জন্য একেক ধরনের এনালগ কম্পিউটার তৈরি করা হয়। যেমন; চাপ মাপের জন্য তৈরি এনালগ কম্পিউটার তাপ মাপের কাজে ব্যবহার করা যায় না। এনালগ কম্পিউটারের কাজের সূক্ষ্মতা কম। এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার মোটর গাড়ির স্পিডোমিটার, পাইড রুল, অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদি কাজে এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer) ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer) ডিজিট (Digit) শব্দ থেকে ডিজিটাল (Digital) শব্দের উৎপত্তি। সংখ্যা প্রক্রিয়াকরণের ভিত্তিতে ডিজিটাল (Digital Computer) কাজ করে। ডিজিটাল কম্পিউটার বাইনারী অর্থ্যাৎ ০ (শূন্য) এবং ১ (এক) এ প্রতীক দুটি দিয়ে সব ধরনের কাজ করে। ডিজিটাল কম্পিউটারের বৈশিষ্ট ফলাফল সরাসরি মনিটরে প্রদর্শিত হয় অথবা অন্য কোন আউটপুট ডিভাইসে প্রদর্শিত হয়। একই কম্পিউটার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। কাজের সূক্ষ্মতা শতভাগ (১০০%)। ডিজিটাল কম্পিউটারের ব্যবহার আমরা যে সকল কম্পিউটার ব্যবহার করি সেগুলোর বেশিরভাগ সাধারণত ডিজিটাল কম্পিউটার। হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer) এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে হাইব্রিড কম্পিউটার তৈরি করা হয়। হাইব্রিড কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য ইনপুট এনালগ প্রকৃতির তবে, আউটপুট ডিজিটাল প্রকৃতির হয়ে থাকে। হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহার হাসপাতালে রোগীর রক্তচাপ, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, শরীরের তাপ ইত্যাদি নির্ণয় করতে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পরমাণু শক্তি উৎপাদন প্লান্টে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। জঙ্গী বিমান, মহাকাশযান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। আকার, আয়তন ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটারকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সুপার কম্পিউটার (Super Computer). মেইন ফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer). মিনি কম্পিউটার (Mini Computer). মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার (Micro or Personal Computer) সুপার কম্পিউটার (Super Computer) ক্ষমতা ও আকৃতি ইত্যাদির ভিত্তিতে অতি বড় কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে। সুপার কম্পিউটার অনেক শক্তিশালী এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে। প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন হিসাব করতে সক্ষম সুপার কম্পিউটার। তবে, সারা বিশ্বে এ কম্পিউটারের সংখ্যা খুব বেশি নয় । সুপার কম্পিউটার এর ব্যবহার সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। নভোযান, জঙ্গী বিমান পরিচালনায় সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। মহাকাশ গবেষণা কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আরও অনেক কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার হলো Sunway Taihulight (চীন)। সম্প্রতি ভারত ‘পরম’ নামে একটি সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে যা সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer) আকারে সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু পার্সোনাল নয়, এরকম কম্পিউটারকে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বলে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার এমন একটি বড় কম্পিউটার যার সাথে অনেকগুলো কম্পিউটার বা ডাম্ব টার্মিনাল (Dumb terminal) যুক্ত করে এক সাথে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার এর ব্যবহার ব্যাংক, বীমা, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বৈজ্ঞানিক কর্ম তৎপরতা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত আইবিএম ১৬২০ কম্পিউটারটি ছিল মেইনফ্রেম কম্পিউটার। মিনি কম্পিউটার (Mini Computer) আকারে মেইনফ্রেম কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় এমন কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বলে। মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer) এবং মিনি কম্পিউটার (Mini Computer) দিয়ে একই ধরনের কাজ করা যায় । মিনি কম্পিউটার আকারে ছোট ও কাজের ক্ষমতাও কম। মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer) আকারে মেইনফ্রেম বা মিনি কম্পিউটারের তুলনায় অনেকগুন ছোট এমন কম্পিউটারকে মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer) বলে। এজন্য মাইক্রোকম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা সংক্ষেপে পিসি (PC) বলে। মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথা- ডেস্কটপ (Desktop). ল্যাপটপ (Laptop). নেটবুক (Netbook). ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab). পামপিসি বা পামটপ (Palm PC or Palmtop). ডেস্কটপ (Desktop Computer) ডেস্ক বা টেবিলে স্থাপন করে যে মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer) ব্যবহার করা হয় তাকে ডেস্কটপ বলে। এটি টেবিলে স্থাপন করে কাজ করতে হয় এবং সহজে বহন করা যায়না। অফিস আদালতের নানা কাজে ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপ (Laptop) ল্যাপ (Lap) অর্থাৎ কোলের উপর স্থাপন করে যে কম্পিউারে কাজ করা যায় তাকে ল্যাপটপ বলে। এটি আকারে ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। ল্যাপটপ নোট বক বা পাওয়ার বুক ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ১৯৮১ সালে প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারে আনে এপসম কোম্পানি। ল্যাপটপের সুবিধাসমূহ ডেস্কটপ পিসির চেয়ে অনেক ছোট ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। কোলে উপর নিয়ে কাজ করা যায়। লোড শেডিংয়ে ডেস্কটপ চালাতে হলে ইউপিএস ব্যবহার করতে হয়। যার ব্যাকআপ টাইম থাকে ১৫-৩০ মিনিট। কিন্তু ল্যাপটপের সাথে ব্যাটারী সংযুক্ত থাকে। বিদ্যুৎ না থাকলে মডেলভেদে ২-৮ ঘণ্টা চালানো যায়। এটি সহজে বহনযোগ্য। আকারে ডেস্কটপ এর চেয়ে অনেক ছোট ও হালকা। ল্যাপটপ দেখতে অনেকটা ছোট ব্রিফকেসের মত। এতে মাউসের পরিবর্তে টাচপ্যাড ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপের অসুবিধাসমূহ ডেস্কটপ পিসি একস্থানে থাকে । খুব বেশি নড়াচড়া করতে হয়না। যার কারণে হাত থেকে পড়ে বা অন্য কারণে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ল্যাপটপ বহনযোগ্য, তাই হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যেতে পারে। সাধারণ মানের ল্যাপটপের ক্ষমতা ডেস্কটপ এর তুলনায় অনেক কম। আবার ডেস্কটপের সমান ক্ষমতার ল্যাপটপের দাম আকাশ ছোঁয়া। কাজেই দামের দিক থেকে তুলনা করলে ল্যাপটপের সমকক্ষ ডেস্কটপ পিসির দাম অনেক কম। ডেস্কটপ এর কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে সহজে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু ল্যাপটপের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি তার দামও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। নেটবুক (Netbook Computer) পূর্ণ আকারের চেয়ে তুলনামূলক ছোট কী-বোর্ড এবং ফ্লিপ-আপ মনিটর সম্বলিত এক ধরনের মোবাইল কম্পিউটারের নাম নেট বুক। এটি ল্যাপটপের চেয়ে ছোট তবে, পামটপের চেয়ে বড়। নেটবুক এর সুবিধা ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ল্যাপটপের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি। নেটবুক এর মনিটর ও কী-বোর্ড আকারে ছোট । ল্যাপটপের তুলনায় নেটবুক এর ওজন অনেক কম। নেটবুক এর কোন অপটিক্যাল ডাইভ থাকে না। নেটবুকের দাম ল্যাপটপের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab) ট্যাবলেট পিসি এক ধরনের কম্পিউটার যার স্ক্রীনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। ট্যাবলেট পিসিতে ভয়েস ইনপুট ব্যবস্থা থাকে যার সাহায্যে ব্যবহারকারী কথা বলার মাধ্যমে কম্পিউটারে নির্দেশ বা ডেটা ইনপুট করতে পারেন। পামপিসি বা পামটপ (Palm Computer or Palmtop) পাম (Palm) অর্থাৎ হাতের তালুর মধ্যে রেখে যে কম্পিউটারে কাজ করা যায় তাকে পামটপ কম্পিউটার বা পামপিসি বলা হয়। একে পকেট পিসি বা পিডিএ (PDA = Personal Digital Assistance) ও বলা হয় । |
