জিহাদঃ
জিহাদ অর্থ কঠোর পরিশ্রম, জোর প্রচেষ্টা,সর্বশক্তি নিয়োগ করা।
শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রতিকুল শক্তির বিরুদ্বে শারীরিক, মানুষিক, আর্থিক সকল প্রকার শক্তির সাহায্যে আপ্রান চেষ্টা করার নাম জিহাদ।
মানুষের প্রভুত্ব উৎখাত করে এক আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েম করার মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠাই হলো জিহাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ।
প্রিয় উপস্থিতি জিহাদ একমাত্র আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হতে হবে। এতে পার্থিব কোন লোভ লালসা থাকবে না। যে সংগ্রামে দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্য বা স্বার্থ থাকে তা শয়তানের পথে যুদ্ব তা জিহাদ নয়।
এ মর্মে কুর আন পাকে বলা হয়েছে,"যারা মুমিন তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে এবং যারা কাফির তারা সংগ্রাম করে তাগুদের পথে।"
রাসূলে করিম (সঃ) বলেন,"যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য সংগ্রাম করে সে আল্লাহর পথে আছে।"বুখারী ও মুসলিম।
প্রিয় উপস্থিতি - ইসলামের দুশমন ও আল্লাহ দ্রোহী শক্তির বিরুদ্বে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। আল্লাহর দ্বীন পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে।
এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,"এবং তোমরা তাদের বিরুদ্বে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ ফেতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সামগ্রিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়। "
জিহাদ দুই প্রকারঃ
# জিহাদে আকবর বা বড় জিহাদ।
# জিহাদে আসগর বা ছোট জিহাদ।
প্রকাশ্য শত্রুর বিরুদ্বে সংগ্রাম হলো ছোট জিহাদ। আর মনের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্বে সংগ্রাম করা হলো বড় জিহাদ। নবী করিম (সঃ) একে জিহাদে আকবর বলে ঘোষণা করেছেন।
ইতিহাস স্বীকৃত সত্য মিথ্যার দ্বন্ধ চিরন্তন। মানুষের মহা মুক্তির মহা সনদ হচ্ছে জিহাদ ফিসাবিলিল্লাহ। যে জমিনে আল্লাহর হুকুমাত বা খেলাফতে ইলাহিয়া কায়েম নেই সেখানে খেলাফতে ইলাহিয়া কায়েমের প্রানপন চেষ্টা করে যাওয়ার নাম জিহাদ।
এটা ফরজ অন্য সকল ফরজ ইবাদতের মতো। আর এটাই হচ্ছে পুরকালীন ভয়াবহতম শাস্তি হতে পরিত্রানের একমাত্র মাধ্যম এবং গ্যারান্টি।
আর যে জনপদে জিহাদ ফিসাবিলিল্লাহের কাজ চালু থাকবে না সে জনপদ এবং তার অধিবাসীদেরকে আল্লাহ লাঞ্চিত ও অপমানিত করবেন বিভিন্ন উপায়ে সে কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে।
প্রিয় উপস্থিতি ইসলামী আন্দলন করা ফরজ। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২১৬ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষনা করেছেন," জিহাদ তোমাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে অথচ তা তোমাদের কাছে কষ্টকর মনে হয়, হতে পারে তোমরা কোন জিনিসকে অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো। আর হতে পারে তোমরা কোনো জিনিসকে ভালোবাস অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জাননা।"
এ আয়াতে কারিমের মাধ্যমে জানতে পারলাম মহান আল্লাহ মানব জাতীর জন্য জিহাদ ফরজ করে দিয়েছেন, নামাজ রোজা হজ্জ্ব যাকাত অন্য সকল ফরজ ইবাদতের মতো।
প্রিয় উপস্থিতি জিহাদ শুধু ফরজ নয় সবচেয়ে বড় ফরজ।
এ সম্পর্কে একটি হাদিস পেশ করছি।
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে নবী করিম (সঃ) বলেছেন,"আমি কি তোমাদেরকে প্রকৃত ব্যাপারের মূল এর স্তম্ভ এবং এর সর্বোচ্চ চুড়া কি তা বলব? আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি অবশ্যই তা আমাদেরকে বলবেন। তখন রাসূল (সঃ) এরশাদ করলেন প্রকৃত ব্যাপারের মূল হইতেছে ইসলাম, মূল সূত্র হইতেছে নামাজ এবং এর সর্বোচ্চ চুড়া হইতেছে জিহাদ "(তিরমিজি )
প্রিয় উপস্থিতি, জিহাদ ইসলামের ফল। ফলকে অস্বীকার করার অর্থ মূল গাছেরই অস্বিকৃতি। অনুরূপ ভাবে জিহাদের আবশ্যকতা, প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলে এবং তা সজত্নে এড়িয়ে চলতে চাইলে মূল ইসলামকেই করা হয় অস্বীকার।
সুরা আল ইমরানের ১৪২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক ঘোষনা করেছেন,"তোমাদের কি ধারণা তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈ্য্যশীল"।
সুরা নিসার ৭৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখিরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জিহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুত যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে মৃত্যু বরন করে অথবা বিজয় অর্জন করে আমি তাদেরকে মহা পুর্ণ দান করব।"
সুরা আল ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষনা করেছেন,"তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতী মানব জাতির কল্যানের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজের নিশেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।"
প্রিয় উপস্থিতি আমরা অনেকেই শাহাদাতের মর্যাদা চাই, কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিনা। এ সব লোকের উদাহরণ হলো ঐ লোকের মতো যে গলায় কলসি বেধে হাটু পানিতে ডুব দেয় আর ওঠে, এমতাবস্থায় এক পথিক তাকে জিজ্ঞেস করে ভাই আপনি কি করছেন? লোকটি বলে আমি পানিতে ডুবে মরতে চাই তাই গলায় কলসি বেধে নেমেছি। পথিক বললো তাহলে ওখানে কেন যেখানে বেশি পানি সেখানে যান। লোকটি বললো সেখানে যেতে তো আমার ভয় করে। - - -
# প্রিয় উপস্থিতি- কুরাইশ মুসরিকদের সাথে মুসলমানদের দ্বন্ধ সৃষ্টির আদি থেকে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতে ও থাকবে। তা না হলে জিহাদ- হিজরতের অবকাশ কোথা থেকে হোত। আল্লাহ বান্দাকে জান ও মাল কেন কুরবানী করতে বলবেন। কেন বলবেন আল্লাহর দল গঠন করতে।
বস্তুত এ সবের কারণ অন্তরে বদ্ধমূল না হলে কুরআন ও সিরাত কোনটাই আমাদের বুঝে আসবে না।
# ইসলামে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই যে, রাজনৈতিক দ্বন্ধ সংঘাত ছাড়াই নিছক ওয়াজ নসিহত ও তাবলিগ এবং ব্যক্তিগত সংশোধন দ্বারা কোন বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। যদি তাই হতো তবে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের পর বিগত ১৪ শত বছরে এদেশে ওয়াজ নসিহত ও তাবলীগের কাজ কম হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় দ্বীন প্রতিষ্ঠার এ প্রকৃয়ার বড় ধরণের কোন খুদ আছে।
# আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয় মানুষের জন্য একটা বড় নিয়ামত বা পুরষ্কার।কিন্তু এ কথা ও ভুলে গেলে চলবে না যে, কোন পুরস্কারই প্রয়োজনীয় চেষ্টা সাধনা, যথাযথ বুদ্ধিমত্তা ও অন্তদৃষ্টি সহকারে করা ছাড়া সম্ভব নয়।
প্রিয় উপস্থিতি- আমরা অনেকেই শাহাদাতের মৃত্য চাই কিন্তু এটা একান্তই আল্লাহ তালার কুদরত আপনি চাইলেই শাহাদাত বরণ করতে পারবেন না। আবার আপনি না চাইলেও আল্লাহর ইচ্ছায় শাহাদাত বরণ করতে পারেন।
এ সম্পর্কিত একটি ঘটনা আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।
হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নাম শোনে নি এমন কোন মুসলমান নেই বললেই চলে। মুসলিম জাহানের সবচেয়ে বড় সিপাহ সালার হলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, যার সমগ্র ইসলামী জীবন জিহাদে অতিবাহিত হয়েছে। তিনি যে যুদ্ধেই নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই যুদ্ধেই জয় লাভ করেছেন। এভাবে জয়লাভ করতে করতে সাহাবীগণের মধ্যে এমন একটা ধারণা হয়ে যায় যে, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ যুদ্ধে নেতৃত্ব দানের মানেই হচ্ছে যুদ্ধে জয়লাভ করা।
৮ম হিজরীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে প্রথমে মুতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরপর তিনজন সেনাপতি শহীদ হলে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেনা দলকে নতুন ভাবে বিন্যাস্ত কর যুদ্ধ করায় মুসলমানগণ বিজয় লাভ করেন। এ কারণে মহানবী (সঃ) তাকে সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারী উপাধি দেন।
এছাড়া তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। ৯ম হিজরীতে দুমাতুল জানদালের খ্রীষ্ঠান রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ১০ম হিজরীতে নাজরানের অভিযান পরিচালনা করেন। মোট কথা তিনি যে যুদ্ধেই যান সে যুদ্ধেই জয় লাভ করেন। কিন্তু বিজয়ের একমাত্র উৎস আল্লাহ । তাই এই চির সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ৬৩৫ খৃঃ দামেস্ক বিজয়ের প্রাক্কালে হয়রত ওমর তাকে সেনাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন সাধারণ সৈন্যের ন্যায় যুদ্ধ করতে বলেন।
সারা জীবন যিনি যুদ্ধে অতিবাহিত করলেন, কিন্তু আশ্চার্যের বিষয় তিনি কোন জিহাদে শহীদ হননি, বরং রোগাক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ৬৪১ খৃঃ ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুর প্রাক্কালে বিছানায় পড়ে মৃত্যবরণ করার আক্ষেপে তিনি অনুতাপ করেছিলেন। এবং পরিবারের লোকদের লক্ষ্যকরে বলেছিলেন আমি অমুক অমুক বিরাট বিরাট জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি। আমার শরীরের এমন কোন স্থান নেই যেখানে তীর, বল্লম বা অন্য কোন মারাত্মক অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়নি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আজ আমি গাধার মতো বিছানায় পড়ে মৃত্যবরন করছি। আল্লাহ যেন আমাকে ভীরু কাপুরুষের প্রাপ্য শাস্তি না দেন। মৃত্যভয়ে যারা জিহাদ থেকে সরে থাকতে চায় তাদেরকে আমার জীবনের এ উপদেশ মূলক ঘটনাটি শুনিয়ে দিও।
জিহাদ অর্থ কঠোর পরিশ্রম, জোর প্রচেষ্টা,সর্বশক্তি নিয়োগ করা।
শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রতিকুল শক্তির বিরুদ্বে শারীরিক, মানুষিক, আর্থিক সকল প্রকার শক্তির সাহায্যে আপ্রান চেষ্টা করার নাম জিহাদ।
মানুষের প্রভুত্ব উৎখাত করে এক আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েম করার মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠাই হলো জিহাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ।
প্রিয় উপস্থিতি জিহাদ একমাত্র আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হতে হবে। এতে পার্থিব কোন লোভ লালসা থাকবে না। যে সংগ্রামে দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্য বা স্বার্থ থাকে তা শয়তানের পথে যুদ্ব তা জিহাদ নয়।
এ মর্মে কুর আন পাকে বলা হয়েছে,"যারা মুমিন তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে এবং যারা কাফির তারা সংগ্রাম করে তাগুদের পথে।"
রাসূলে করিম (সঃ) বলেন,"যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য সংগ্রাম করে সে আল্লাহর পথে আছে।"বুখারী ও মুসলিম।
প্রিয় উপস্থিতি - ইসলামের দুশমন ও আল্লাহ দ্রোহী শক্তির বিরুদ্বে জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। আল্লাহর দ্বীন পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চালিয়ে যেতে হবে।
এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,"এবং তোমরা তাদের বিরুদ্বে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ ফেতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সামগ্রিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়। "
জিহাদ দুই প্রকারঃ
# জিহাদে আকবর বা বড় জিহাদ।
# জিহাদে আসগর বা ছোট জিহাদ।
প্রকাশ্য শত্রুর বিরুদ্বে সংগ্রাম হলো ছোট জিহাদ। আর মনের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্বে সংগ্রাম করা হলো বড় জিহাদ। নবী করিম (সঃ) একে জিহাদে আকবর বলে ঘোষণা করেছেন।
ইতিহাস স্বীকৃত সত্য মিথ্যার দ্বন্ধ চিরন্তন। মানুষের মহা মুক্তির মহা সনদ হচ্ছে জিহাদ ফিসাবিলিল্লাহ। যে জমিনে আল্লাহর হুকুমাত বা খেলাফতে ইলাহিয়া কায়েম নেই সেখানে খেলাফতে ইলাহিয়া কায়েমের প্রানপন চেষ্টা করে যাওয়ার নাম জিহাদ।
এটা ফরজ অন্য সকল ফরজ ইবাদতের মতো। আর এটাই হচ্ছে পুরকালীন ভয়াবহতম শাস্তি হতে পরিত্রানের একমাত্র মাধ্যম এবং গ্যারান্টি।
আর যে জনপদে জিহাদ ফিসাবিলিল্লাহের কাজ চালু থাকবে না সে জনপদ এবং তার অধিবাসীদেরকে আল্লাহ লাঞ্চিত ও অপমানিত করবেন বিভিন্ন উপায়ে সে কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে।
প্রিয় উপস্থিতি ইসলামী আন্দলন করা ফরজ। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২১৬ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষনা করেছেন," জিহাদ তোমাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে অথচ তা তোমাদের কাছে কষ্টকর মনে হয়, হতে পারে তোমরা কোন জিনিসকে অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো। আর হতে পারে তোমরা কোনো জিনিসকে ভালোবাস অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জাননা।"
এ আয়াতে কারিমের মাধ্যমে জানতে পারলাম মহান আল্লাহ মানব জাতীর জন্য জিহাদ ফরজ করে দিয়েছেন, নামাজ রোজা হজ্জ্ব যাকাত অন্য সকল ফরজ ইবাদতের মতো।
প্রিয় উপস্থিতি জিহাদ শুধু ফরজ নয় সবচেয়ে বড় ফরজ।
এ সম্পর্কে একটি হাদিস পেশ করছি।
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে নবী করিম (সঃ) বলেছেন,"আমি কি তোমাদেরকে প্রকৃত ব্যাপারের মূল এর স্তম্ভ এবং এর সর্বোচ্চ চুড়া কি তা বলব? আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি অবশ্যই তা আমাদেরকে বলবেন। তখন রাসূল (সঃ) এরশাদ করলেন প্রকৃত ব্যাপারের মূল হইতেছে ইসলাম, মূল সূত্র হইতেছে নামাজ এবং এর সর্বোচ্চ চুড়া হইতেছে জিহাদ "(তিরমিজি )
প্রিয় উপস্থিতি, জিহাদ ইসলামের ফল। ফলকে অস্বীকার করার অর্থ মূল গাছেরই অস্বিকৃতি। অনুরূপ ভাবে জিহাদের আবশ্যকতা, প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলে এবং তা সজত্নে এড়িয়ে চলতে চাইলে মূল ইসলামকেই করা হয় অস্বীকার।
সুরা আল ইমরানের ১৪২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক ঘোষনা করেছেন,"তোমাদের কি ধারণা তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈ্য্যশীল"।
সুরা নিসার ৭৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখিরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জিহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুত যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে মৃত্যু বরন করে অথবা বিজয় অর্জন করে আমি তাদেরকে মহা পুর্ণ দান করব।"
সুরা আল ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষনা করেছেন,"তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতী মানব জাতির কল্যানের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজের নিশেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।"
প্রিয় উপস্থিতি আমরা অনেকেই শাহাদাতের মর্যাদা চাই, কিন্তু ইসলামী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিনা। এ সব লোকের উদাহরণ হলো ঐ লোকের মতো যে গলায় কলসি বেধে হাটু পানিতে ডুব দেয় আর ওঠে, এমতাবস্থায় এক পথিক তাকে জিজ্ঞেস করে ভাই আপনি কি করছেন? লোকটি বলে আমি পানিতে ডুবে মরতে চাই তাই গলায় কলসি বেধে নেমেছি। পথিক বললো তাহলে ওখানে কেন যেখানে বেশি পানি সেখানে যান। লোকটি বললো সেখানে যেতে তো আমার ভয় করে। - - -
# প্রিয় উপস্থিতি- কুরাইশ মুসরিকদের সাথে মুসলমানদের দ্বন্ধ সৃষ্টির আদি থেকে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতে ও থাকবে। তা না হলে জিহাদ- হিজরতের অবকাশ কোথা থেকে হোত। আল্লাহ বান্দাকে জান ও মাল কেন কুরবানী করতে বলবেন। কেন বলবেন আল্লাহর দল গঠন করতে।
বস্তুত এ সবের কারণ অন্তরে বদ্ধমূল না হলে কুরআন ও সিরাত কোনটাই আমাদের বুঝে আসবে না।
# ইসলামে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই যে, রাজনৈতিক দ্বন্ধ সংঘাত ছাড়াই নিছক ওয়াজ নসিহত ও তাবলিগ এবং ব্যক্তিগত সংশোধন দ্বারা কোন বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। যদি তাই হতো তবে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের পর বিগত ১৪ শত বছরে এদেশে ওয়াজ নসিহত ও তাবলীগের কাজ কম হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় দ্বীন প্রতিষ্ঠার এ প্রকৃয়ার বড় ধরণের কোন খুদ আছে।
# আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয় মানুষের জন্য একটা বড় নিয়ামত বা পুরষ্কার।কিন্তু এ কথা ও ভুলে গেলে চলবে না যে, কোন পুরস্কারই প্রয়োজনীয় চেষ্টা সাধনা, যথাযথ বুদ্ধিমত্তা ও অন্তদৃষ্টি সহকারে করা ছাড়া সম্ভব নয়।
প্রিয় উপস্থিতি- আমরা অনেকেই শাহাদাতের মৃত্য চাই কিন্তু এটা একান্তই আল্লাহ তালার কুদরত আপনি চাইলেই শাহাদাত বরণ করতে পারবেন না। আবার আপনি না চাইলেও আল্লাহর ইচ্ছায় শাহাদাত বরণ করতে পারেন।
এ সম্পর্কিত একটি ঘটনা আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।
হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নাম শোনে নি এমন কোন মুসলমান নেই বললেই চলে। মুসলিম জাহানের সবচেয়ে বড় সিপাহ সালার হলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, যার সমগ্র ইসলামী জীবন জিহাদে অতিবাহিত হয়েছে। তিনি যে যুদ্ধেই নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই যুদ্ধেই জয় লাভ করেছেন। এভাবে জয়লাভ করতে করতে সাহাবীগণের মধ্যে এমন একটা ধারণা হয়ে যায় যে, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ যুদ্ধে নেতৃত্ব দানের মানেই হচ্ছে যুদ্ধে জয়লাভ করা।
৮ম হিজরীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে প্রথমে মুতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরপর তিনজন সেনাপতি শহীদ হলে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেনা দলকে নতুন ভাবে বিন্যাস্ত কর যুদ্ধ করায় মুসলমানগণ বিজয় লাভ করেন। এ কারণে মহানবী (সঃ) তাকে সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারী উপাধি দেন।
এছাড়া তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। ৯ম হিজরীতে দুমাতুল জানদালের খ্রীষ্ঠান রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ১০ম হিজরীতে নাজরানের অভিযান পরিচালনা করেন। মোট কথা তিনি যে যুদ্ধেই যান সে যুদ্ধেই জয় লাভ করেন। কিন্তু বিজয়ের একমাত্র উৎস আল্লাহ । তাই এই চির সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ৬৩৫ খৃঃ দামেস্ক বিজয়ের প্রাক্কালে হয়রত ওমর তাকে সেনাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন সাধারণ সৈন্যের ন্যায় যুদ্ধ করতে বলেন।
সারা জীবন যিনি যুদ্ধে অতিবাহিত করলেন, কিন্তু আশ্চার্যের বিষয় তিনি কোন জিহাদে শহীদ হননি, বরং রোগাক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ৬৪১ খৃঃ ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুর প্রাক্কালে বিছানায় পড়ে মৃত্যবরণ করার আক্ষেপে তিনি অনুতাপ করেছিলেন। এবং পরিবারের লোকদের লক্ষ্যকরে বলেছিলেন আমি অমুক অমুক বিরাট বিরাট জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি। আমার শরীরের এমন কোন স্থান নেই যেখানে তীর, বল্লম বা অন্য কোন মারাত্মক অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়নি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আজ আমি গাধার মতো বিছানায় পড়ে মৃত্যবরন করছি। আল্লাহ যেন আমাকে ভীরু কাপুরুষের প্রাপ্য শাস্তি না দেন। মৃত্যভয়ে যারা জিহাদ থেকে সরে থাকতে চায় তাদেরকে আমার জীবনের এ উপদেশ মূলক ঘটনাটি শুনিয়ে দিও।
জিহাদ ফি-সাবি লিল্লাহ্
